শিল্পীদের পছন্দের দল থাকার অর্থ অপরাধ নয় : জায়েদ খান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৭ বার
জায়েদ খান

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়ক এবং চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে স্টেজ শো ও পারফরম্যান্সে ব্যস্ত থাকায় দেশে নিয়মিত যাওয়া-আসা করতে পারেননি। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় তার দেশে ফেরা দেরিতে হয়েছে।

নিউইয়র্ক থেকে বুধবার (১৮ মার্চ) দেশের গণমাধ্যমকে জায়েদ খান জানিয়েছেন, দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই। হাতে কিছু কাজ রয়েছে, নিয়মিত শো করছেন এবং বিভিন্ন দেশে পারফরম্যান্স করছেন। একইসঙ্গে নিজের নামে হওয়া মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, “কোনো কারণ ছাড়াই ব্যক্তিগত আক্রোশ ও প্রতিহিংসা থেকে মামলা করা হয়েছে। যারা অভিযোগ দিয়েছেন, তারাও জানেন অভিযোগগুলো মিথ্যা।”

জায়েদ খান অকপটে জানান, দেশে ফেরার ব্যাপারে সব বিভ্রান্তি ভুল। তিনি বলেন, “আমি দেশে ফিরব না কেন? অবশ্যই ফিরব। সময়-সুযোগ হলে বাংলাদেশে যাব, এটি আমার মাতৃভূমি। গ্রামে আমার মা-বাবার কবর রয়েছে। দেশে থাকা অবস্থায় মাঝেমধ্যেই গ্রামে গিয়ে তাদের কবর জিয়ারত করেছি। দেশে আমার ভাই-বোন আছেন। শিল্পী হিসেবে সহকর্মী শিল্পীদের নিয়মিত খোঁজ রেখেছি। আপাতত এখানে (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে যাওয়ার কথা ভাবছি না। দেশে ফিরব, অবশ্যই ফিরব।”

নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশি তারকাদের সঙ্গে নিয়মিত শো করছেন জায়েদ খান। তার হাতে আছে শর্টফিল্ম ও অন্যান্য পারফরম্যান্সের কাজ। তিনি বলেন, “নিজেকে ভেঙে গড়েছি। এসব ব্যস্ততার কারণে দেশে যাওয়া-আসা হচ্ছে না। তবে দেশে ফিরব, অবশ্যই ফিরব।”

জায়েদ খান দেশের বাইরে থাকা অনেক শিল্পীর উদাহরণও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সময়ের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। “আমি একজন শিল্পী, আজীবন ক্যামেরার সামনে থাকতে চাই। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে যদি দেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করে পারি, দেশে যাওয়া-আসা করে সেটি সম্ভব হলে খারাপ কি? দিনের শেষে যেখানে ভালো থাকা যায়, সেটিই মুখ্য বিষয়। দেশের অতীত পরিস্থিতিও শিল্পীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে।”

শিল্পীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও জায়েদ খান বলেন, “হ্যাঁ, অনেক শিল্পী নির্বাচনি প্রচারণা ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু কোনো শিল্পী কখনো দুর্নীতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা হত্যাকাণ্ডে জড়িত হননি। শিল্পীরা সহজ-সরল। তাদের পছন্দের দলের হয়ে কাজ করাটা অপরাধ নয়। দীর্ঘদিন শিল্পীসমিতির দায়িত্বে থাকার সময়ে আমি এমন বৈষম্য দেখিনি। নতুন নির্বাচনের পর অনেক শিল্পী দলের পক্ষে প্রচারণা করেছে, তাই বলে তারা অপরাধী নয়।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পীদের বিষয়টি সুনজরে দেখবেন। “সব শিল্পীকে মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ করে দিন। শিল্পীরা তাদের কাজ করুক। দেশের শিল্প-সংস্কৃতিকে রক্ষা করুক। ভুল-ত্রুটি থাকলে সংশোধনের সুযোগ দিন। এক শ্রেণির মানুষ মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে শিল্পীদের দমন করছে, যা ঠিক নয়। আমি আশা করি শিল্পীদের নিয়ে সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

জায়েদ খানের কথায় স্পষ্ট, দেশের বাইরে থাকার অর্থ কোনো বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং শিল্পীদের নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনের প্রতিফলন। দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং শিল্পী হিসেবে দায়িত্ববোধের কারণে তিনি সর্বদা বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত