উত্তর কোরিয়ার নির্বাচনে ৯৯.৯৩% ভোটে কিমের পার্টি জয়ী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬
  • ২৫ বার
কিমের পার্টি জয়ী

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উত্তর কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ১৫তম সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি (এসপিএ) নির্বাচনে দেশটির ক্ষমতাসীন নেতা কিম জং ওয়ার্কার্স পার্টি বিপুল সমর্থন পেয়ে জয়লাভ করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে পার্টিটি প্রায় ৯৯.৯৩ শতাংশ ভোট অর্জন করেছে। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৯৯.৯৯ শতাংশ, যা দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার এসপিএ, যা দেশটির নামমাত্র আইনসভা, এতে মোট ৬৮৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। এবারও প্রতিটি আসনে ভোটারদের সামনে মাত্র একজন প্রার্থী থাকেন, যিনি পূর্ব অনুমোদিত। ভোটাররা তাকে সমর্থন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন, তবে ইতিহাস অনুযায়ী প্রায় সব আসনে সমর্থন প্রাপ্তিই নিশ্চিত থাকে।

কেসিএনএ তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটের মধ্যে মাত্র ০.০৭ শতাংশ ভোট প্রার্থীর বিপক্ষে গেছে। কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এই রাষ্ট্রে এত কম বিরোধী ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। অনেক নেটিজেন মজা করে এই ০.০৭ শতাংশ ভোটারকে ‘অত্যন্ত সাহসী’ বা ‘মৃত’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবারের ফলাফলকে জনগণের ঐক্য এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অটল সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, ভোট প্রক্রিয়ার কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রার্থীর অভাব আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

নির্বাচনের দিনে কিম জং-উন নিজেও ভোটার হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি একটি কয়লা খনিতে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা দেশীয় অর্থনীতিতে কয়লা শিল্পের গুরুত্ব এবং পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্যে তার ভূমিকার ওপর জোর দেওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। এই সময়ে তিনি তার বোন কিম ইয়ো-জংসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং দেশ পরিচালনা অব্যাহত রাখার ও আধুনিকায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন ও ফলাফল দর্শক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা দেয়। দেশটির ক্ষমতাসীন দল প্রায় সর্বত্র এককভাবে বিজয়ী হওয়ার কারণে রাজনৈতিক সমালোচনার সম্ভাবনা কম, তবে স্বচ্ছতা ও জনমতের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক আগের মতোই রয়েছে।

এসপিএ নির্বাচনের এই ফলাফল কিম জং-উনের নেতৃত্বকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করছে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এ ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছেন, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশল বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উত্তর কোরিয়ার এই নির্বাচন প্রমাণ করছে, দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থা কেবল ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নয়, নেতাদের দৃঢ় নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোতেও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত। কিম জং-উনের দল বিজয়ী হওয়ায় এই নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও দৃঢ় হয়েছে।

এই নির্বাচনের ফলাফল, ভোটার উপস্থিতি এবং প্রায় সার্বভৌম সমর্থন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিশ্লেষকদের কাছে দৃষ্টিগ্রাহ্য হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ধরনের নির্বাচন কেবল দেশীয় রাজনৈতিক দৃঢ়তার প্রতিফলন নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত