প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভারতের চলতি বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ অবশেষে আজ ১৯ মার্চ মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির আগেই ছবিটি ঘিরে দর্শকদের মধ্যে তুমুল আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল, বুধবার, দেশটির কয়েকটি শহরে পেইড প্রিভিউ শো অনুষ্ঠিত হয়। দর্শকরা উচ্ছ্বাসে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন, যা প্রমাণ করে প্রথম কিস্তির পর থেকে দর্শকরা পরবর্তী গল্প জানতে কতটা আগ্রহী ছিলেন। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে।
ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে চলচ্চিত্র সমালোচকরা চরিত্রগুলোর সাফল্যকে উল্লেখ করেছেন। প্রতিটি চরিত্রই দর্শকের মনে গভীর ছাপ রেখেছে। তবে এই চরিত্রগুলো যথাযথভাবে কাস্ট করা মোটেও সহজ ছিল না। কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া জানিয়েছেন, পুরো কাস্টিং প্রক্রিয়ায় লেগেছে প্রায় দেড় বছর।
ছবির সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র ‘রহমান ডাকাত’। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না। একমাত্র এই চরিত্রের জন্যই অডিশন দিয়েছিলেন ৬০ জন অভিনেতা। ওটিটি তারকা থেকে দক্ষিণ ভারতের অভিনেতা—সবাই ছিলেন প্রতিযোগিতায়। শেষ পর্যন্ত সকলকে ছাড়িয়ে যান অক্ষয় খান্না। তাঁর অভিনয় এতটাই প্রশংসিত হয়েছে যে অনেকেই তাঁর জন্য অস্কারের দাবিও তুলেছিলেন।
মজার বিষয় হলো, শুরুতে অক্ষয় খান্না এই চরিত্রে রাজি ছিলেন না। প্রথম প্রস্তাবে সন্তুষ্ট হননি তিনি। পরে প্রায় চার ঘণ্টার দীর্ঘ ন্যারেশন শোনানো হয়। ন্যারেশন শেষ হওয়ার পর তিনি শুধু দুটি শব্দ বলেছিলেন—‘মুকেশ, দুর্দান্ত’। এরপরই চূড়ান্ত হয় তাঁর কাস্টিং।
ছবিতে রণবীর সিংয়ের বিপরীতে রয়েছেন সারা অর্জুন। তাঁদের বয়সের ব্যবধান প্রায় ২০ বছর, যা নিয়ে মুক্তির আগে কিছু বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। তবে কাস্টিং ডিরেক্টর জানিয়েছেন, এটি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত। চরিত্রের প্রেক্ষিতে কম বয়সী অভিনেত্রী নেওয়া হয়েছে। গল্পে হামজা চরিত্রটি মেয়েটিকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে, তাই বয়সের ব্যবধান ন্যারেটিভের সঙ্গে খাপ খায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যারা প্রশ্ন তুলেছেন, তারা পার্ট ২-তে সব উত্তর পাবেন।
সারা অর্জুনকে বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া ছিল সময়সাপেক্ষ ও পরিকল্পিত। এই চরিত্রের জন্য দেশজুড়ে একাধিক শহরে অডিশন অনুষ্ঠিত হয়। কাস্টিং টিম নতুন মুখের খোঁজে ডিজিটাল অডিশন, ওয়ার্কশপ এবং স্ক্রিন টেস্ট—সবমিলিয়ে প্রায় ১,৩০০ তরুণীর অডিশন নেওয়া হয়। ধাপে ধাপে বাছাই শেষে অল্প কয়েকজনকে শর্টলিস্ট করা হয়। এরপর আলাদা করে লুক টেস্ট ও কেমিস্ট্রি টেস্ট করা হয় রণবীর সিংয়ের সঙ্গে।
পরীক্ষাগুলোতে স্বাভাবিক অভিনয়, ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি এবং চরিত্রের নির্দোষ অথচ রহস্যময় দিক ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতায় এগিয়ে থাকেন সারা অর্জুন। আগে শিশুশিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেও বড় পর্দায় জটিল চরিত্রে তাঁকে আগে দেখা যায়নি। নির্মাতারা এমনই ‘ফ্রেশ ফেস’ খুঁজছিলেন, যাকে দেখে দর্শক চরিত্রটিকে বিশ্বাস করবে এবং আগে থেকে কোনো ইমেজ মাথায় আসবে না। সেই ভাবনা থেকেই সারাকেই চূড়ান্ত করা হয়।
ছবিতে পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ জামিল জামালির চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাকেশ বেদি। এই চরিত্রে তাঁকে নেওয়া নিয়েও ছিল দ্বিধা, কারণ আগে তিনি এমন চরিত্রে কাজ করেননি। অনেকেই পরিচালককে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। তবে পরিচালক আদিত্য ধর তার ওপর আস্থা রেখেছেন। ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁকে নেওয়া হয়। মুক্তির পরও তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।
‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ দর্শককে রোমাঞ্চ, চরিত্রের গভীরতা ও তত্ত্বসমৃদ্ধ কাহিনীর সঙ্গে মুগ্ধ করবে। রহমান ডাকাতের চরিত্রে অক্ষয় খান্নার শক্তিশালী উপস্থিতি এবং সারা অর্জুনের নতুন প্রাপ্তি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম হবে। ছবিটি কেবল বিনোদন নয়, বরং কৌশল, অভিনয় ও চরিত্রায়নের নিখুঁত সমন্বয়ও ফুটিয়ে তোলে।