প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনে সন্ধ্যার আগেই শক্তিশালী ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে ঢাকাসহ চারটি বিভাগে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, যা জনজীবন ও নৌ চলাচলে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এই পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের ঝড় সাধারণত আকস্মিকভাবে সৃষ্টি হয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে তীব্র আকার ধারণ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতার কারণে এ ধরনের কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টি হয়। এর সঙ্গে বজ্রপাতের ঝুঁকিও বাড়ে, যা গ্রামীণ ও খোলা স্থানে থাকা মানুষের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক হতে পারে।
অন্যদিকে, দেশের আরও কিছু অঞ্চলেও তুলনামূলক কম মাত্রার ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং কুমিল্লা এলাকায় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মাঝারি থেকে ছোট নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে, কারণ হঠাৎ ঝড়ের দমকা হাওয়া নদীপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
শহরাঞ্চলেও এই ঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, গাছপালা উপড়ে পড়া এবং সাময়িক যানজটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস শেষ করে ঘরে ফেরার সময় এই ঝড় শুরু হলে ভোগান্তি বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে খোলা স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া, উঁচু স্থানে না দাঁড়ানো এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়া কৃষি খাতেও এই ঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে। মাঠের ফসল, বিশেষ করে বোরো ধান ও শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের আগাম সতর্কতা অবলম্বন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মার্চ মাসের শেষভাগে এই ধরনের অস্থির আবহাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এর তীব্রতা ও অনিশ্চয়তা কিছুটা বেড়েছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝড় আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আজকের আবহাওয়া পরিস্থিতি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।