ঈদযাত্রায় দুর্ভোগে ‘জুলুম’ অভিযোগ জামায়াত আমিরের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
অভিযোগ জামায়াত আমিরের

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রাপথে চরম ভোগান্তির অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা সাধারণ মানুষের ওপর ‘চরম জুলুম’ চালানো হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার এক করুণ চিত্র তুলে ধরে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যে ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষা, পারিবারিক আবেগ এবং সেই আনন্দঘন মুহূর্তের সঙ্গে বাস্তব দুর্ভোগের তীব্র বৈপরীত্য উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ঈদ মানেই প্রিয়জনের কাছে ফিরে যাওয়া। সারা বছর কর্মব্যস্ত জীবনে কাটানো মানুষগুলো এই সময়টাতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর আশায় থাকে। কিন্তু বাস্তবে তাদের সেই যাত্রা হয়ে উঠছে কষ্টকর এবং দুর্বিষহ। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতি কেবল দুর্বল ব্যবস্থাপনার ফল নয়, বরং এটি একটি বড় ধরনের ব্যর্থতার প্রতিফলন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, চলতি বছরে ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় যে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে, তা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও ভয়াবহ। তিনি এটিকে ‘ইতিহাসের জঘন্যতম অব্যবস্থাপনা’ বলে উল্লেখ করেন এবং এর দায় সরকারের ওপর বর্তায় বলে দাবি করেন।

তার বক্তব্যে উঠে আসে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন। তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর পূর্ববর্তী বক্তব্যই এই পরিস্থিতির ভিত্তি তৈরি করেছে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো মন্ত্রণালয়ের নাম উল্লেখ করেননি, তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তগুলোর দিকেই।

ডা. শফিকুর রহমান আরও দাবি করেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য ভাড়া সংক্রান্ত ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে বলা হয়েছে ঈদযাত্রায় বাস ভাড়া কম নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার ভাষায়, এটি ‘চরম মিথ্যাচার’, যা মানুষের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই দুর্ভোগ ও কষ্টের দায় কে নেবে। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি, দীর্ঘ অপেক্ষা, অতিরিক্ত ভাড়া এবং অনিরাপদ যাত্রা—সব মিলিয়ে এক হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার বক্তব্যে রাজনৈতিক সুরও স্পষ্ট। তিনি বলেন, দেশ আবারও ‘ফ্যাসিবাদের’ দিকে ধাবিত হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কেউ যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, তবে তা জনগণ মেনে নেবে না।

বিশেষ করে তরুণ সমাজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সচেতন ও জাগ্রত জনগণ অন্যায় সহ্য করবে না। সময় থাকতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় এর দায় সংশ্লিষ্টদেরই বহন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক, রেলপথ ও নৌপথে যাত্রীচাপ বৃদ্ধি পায়। এ সময় যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট সংকট এবং নিরাপত্তাহীনতার মতো সমস্যাগুলো প্রায়ই সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যা মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ নিলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রেই তা কার্যকর হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ঈদযাত্রার মতো বড় আকারের জনস্রোত ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনা, কঠোর নজরদারি এবং বাস্তবসম্মত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় প্রতিবছরই একই ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সব মিলিয়ে, ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য দেশের চলমান ঈদযাত্রা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত