ঈদের আগে ফাঁকা রাজধানী, ঘরে ফেরার শেষ ঢল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
ফাঁকা রাজধানী

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়ার শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় এখনো থামেনি মানুষের স্রোত। ঈদের আগের দিনেও প্রিয়জনের টানে ঘরমুখো মানুষের ঢল অব্যাহত রয়েছে, তবে কয়েকদিন আগের তুলনায় ভিড় কিছুটা কমেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও নৌঘাটে গত কয়েকদিন ছিল উপচেপড়া ভিড়। শুক্রবার সেই চাপ কিছুটা কমলেও এখনো অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। কেউ অপেক্ষা করছেন বাসস্ট্যান্ডে, কেউ ট্রেনের টিকিট হাতে নিয়ে শেষ যাত্রার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

ঘরমুখো যাত্রীদের অভিযোগ, শেষ মুহূর্তেও অনেক পরিবহন থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারির কথা বলা হচ্ছে, তবুও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি কমেনি বলে জানিয়েছেন তারা।

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা যেমন মিরপুর, ফার্মগেট, শাহবাগ এবং মতিঝিল—এসব জায়গায় এখন অনেকটাই ভিন্ন চিত্র। সাধারণ দিনের চিরচেনা যানজট, মানুষের ভিড় আর কোলাহল যেন হঠাৎ করেই উধাও। সড়কগুলো তুলনামূলকভাবে ফাঁকা, যানবাহনও কম চলাচল করছে।

গণপরিবহনেও দেখা গেছে পরিবর্তন। বাসের সংখ্যা কমে এসেছে, সিএনজি অটোরিকশাও তুলনামূলকভাবে কম চলছে। যারা এখনো রাজধানীতে অবস্থান করছেন, তারা তুলনামূলক স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছেন।

এদিকে মহাসড়কের পরিস্থিতিও অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরিফ জানান, উত্তরাঞ্চলের মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কম। ফলে যাত্রীরা অনেকটাই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারছেন।

প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী থেকে গ্রামমুখী মানুষের বিশাল স্রোত দেখা যায়। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী—সবাই এই সময়টাতে প্রিয়জনের কাছে ফিরে যেতে চান। ফলে কয়েকদিনের মধ্যে ঢাকা শহর অনেকটাই জনশূন্য হয়ে পড়ে।

এই ফাঁকা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ ও র‌্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। চুরি, ছিনতাই কিংবা অন্য কোনো অপরাধ যাতে না ঘটে, সে জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আবাসিক এলাকাগুলোতেও নজরদারি রাখা হচ্ছে। অনেক বাসা ফাঁকা থাকায় এসব এলাকায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ টিম।

ঈদের আগের দিনের এই চিত্র যেন এক অন্যরকম ঢাকা। ব্যস্ততা কমে গিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের নীরবতা। তবে এই নীরবতার মধ্যেও লুকিয়ে আছে আনন্দের প্রত্যাশা—যারা ঘরে ফিরেছেন, তারা এখন অপেক্ষায় ঈদের সকালকে ঘিরে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার।

সব মিলিয়ে, ঈদের আগের দিন রাজধানী অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেলেও মানুষের হৃদয়ে জমে উঠছে উৎসবের আমেজ। দীর্ঘ যাত্রা শেষে প্রিয়জনের কাছে পৌঁছানোর আনন্দই যেন সব কষ্টকে ভুলিয়ে দিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত