প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দে যখন সারা দেশ ভাসছে, তখন ব্যক্তিগত এক আবেগঘন গল্প দিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন তাসকিন আহমেদ। এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদের দিন মুসলমানদের জন্য যেমন আনন্দ ও মিলনের বার্তা নিয়ে আসে, তেমনি এই দিনটি তাসকিনের জন্য হয়ে উঠেছে গর্বের এক বিশেষ উপলক্ষ। কারণ, তার ছোট ছেলে তাশফিন আহমেদ রিয়ান এবার টানা ৩০টি রোজা পালন করেছে—যা একজন বাবার হৃদয়ে স্বাভাবিকভাবেই গভীর আনন্দের সঞ্চার করে।
ঈদের নামাজ শেষে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তাসকিন। সেখানে ছেলের এই অর্জন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগ লুকাতে পারেননি তিনি। তার ভাষায়, এটি একজন বাবার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি জানান, ছেলের বয়স কম হওয়ায় শুরুতে তাকে প্রতিদিন রোজা না রাখার পরামর্শই দিয়েছিলেন। একদিন পরপর রোজা রাখলেই যথেষ্ট হবে—এমনটিই বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ছোট্ট তাশফিন নিজের ইচ্ছাশক্তি আর ধর্মীয় অনুরাগ দিয়ে সেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত সে পুরো মাসের সবগুলো রোজাই সম্পন্ন করেছে।
এই গল্পের সবচেয়ে মানবিক দিকটি ফুটে ওঠে সেহরির সময়কে ঘিরে। ভোরে যাতে তাকে কেউ ডাকতে ভুলে না যায়, সেই আশঙ্কায় অনেক সময়ই ঘুমাতে চাইত না তাশফিন। বিষয়টি নিয়ে তাসকিন জানান, তিনি যখন বাসায় থাকতেন, তখন ছেলেকে আশ্বস্ত করতেন যে নিজেই তাকে জাগিয়ে দেবেন। সেই বিশ্বাস পেলে তবেই সে ঘুমাতে রাজি হতো। একজন সন্তানের ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের প্রতি এমন আন্তরিকতা, আর একজন বাবার স্নেহময় আশ্বাস—এই সম্পর্কের গভীরতা যেন সহজেই অনুভব করা যায়।
ঈদের দিনটি শুধু রোজার সফল সমাপ্তির আনন্দেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পারিবারিক আনন্দ, হাসি-ঠাট্টা এবং ছোট ছোট স্বপ্নেও ভরপুর ছিল তাসকিনের পরিবার। সালামি হিসেবে বাবা, মা এবং দাদার কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে পেয়েছে তাশফিন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তার সরল অথচ মিষ্টি উত্তর—সে এই টাকা জমিয়ে একটি খাট কিনবে—সবার মুখে হাসি ফোটায়। শিশুর সরলতা আর ভবিষ্যতের ছোট্ট স্বপ্ন যেন ঈদের আনন্দকে আরও নির্মল করে তোলে।
ঈদের দিন পরিবারের সঙ্গে মিল রেখে পোশাক পরার একটি চিত্রও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাসকিন আহমেদ, তার বাবা এবং ছেলে—তিনজনই ম্যাচিং ড্রেসে ছবি তুলে শেয়ার করেন। সেই ছবির ক্যাপশনে তিনি সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ছবি ভক্তদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে, যেখানে অনেকেই তাদের পারিবারিক বন্ধনের প্রশংসা করেন।
এদিকে দেশের অন্যান্য ক্রিকেটাররাও নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মুশফিকুর রহিম গ্রামে পরিবারের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করে সেই মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেছেন। তার পোস্টে ছিল প্রার্থনা—আল্লাহ যেন সবার নেক আমল কবুল করেন। অন্যদিকে শরীফুল ইসলাম নিজের সন্তানকে কোলে নিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, যা ভক্তদের মধ্যে বেশ আবেগ তৈরি করে।
ক্রিকেটারদের এই পারিবারিক মুহূর্তগুলো সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে তোলে। মাঠের বাইরের এই মানবিক দিকগুলো ভক্তদের কাছে তাদের আরও আপন করে তোলে। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-এর মতো তারকারাও সামাজিক মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভক্তদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রেখেছেন।
সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর ক্রিকেটাররা ঈদের ছুটিতে রয়েছেন। এই জয় দলকে যেমন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে, তেমনি ঈদের আনন্দও তাদের জন্য হয়েছে আরও দ্বিগুণ। তবে এই ছুটির পরপরই আবার ব্যস্ততা শুরু হবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ে। সামনে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ, যেখানে বাংলাদেশ দল তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে।
এর পাশাপাশি কয়েকজন ক্রিকেটারের জন্য অপেক্ষা করছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মঞ্চ। পাকিস্তান সুপার লিগে অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের একাধিক খেলোয়াড়। Pakistan Super League-এর এবারের আসরে বিভিন্ন দলে জায়গা পেয়েছেন দেশের তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা। এই টুর্নামেন্ট তাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটকেও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে এবারের ঈদুল ফিতর শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং পারিবারিক ভালোবাসা, ব্যক্তিগত অর্জন এবং পেশাদার জীবনের বিরতিতে এক স্বস্তির মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। তাসকিন আহমেদের ছেলের ৩০ রোজা পালন যেন সেই বড় চিত্রের একটি ছোট কিন্তু উজ্জ্বল অংশ। যেখানে ধর্মীয় অনুশাসন, পারিবারিক বন্ধন এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন একসঙ্গে মিলেমিশে এক সুন্দর গল্প তৈরি করেছে।