বান্দরবানে খাদে বাস, আহত অন্তত ৩০

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬
  • ১ বার

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কে ভোরের নীরবতা ভেঙে ঘটে গেল ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা। ঢাকায় শুরু হওয়া একটি ভ্রমণ মুহূর্তেই পরিণত হলো আতঙ্ক আর আর্তনাদের ঘটনায়। বান্দরবান-এ পর্যটকবাহী একটি বাস খাদে পড়ে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রোববার ভোর ৫টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে জেলা সদরের সুয়ালক বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকার উদ্দেশ্য থেকে ছেড়ে আসা সৌদিয়া পরিবহনের বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। পাহাড়ি পথ ধরে গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছিল বাসটি। তবে দুর্গম ও ঢালু পথে নামার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে চালক। মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি রাস্তা ছেড়ে গভীর খাদে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার সেই মুহূর্তটি ছিল ভয়াবহ। বাসটি খাদে পড়ে বিকট শব্দে থেমে গেলে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আর্তনাদ। ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীরা কেউ চিৎকার করে সাহায্য চাইছিলেন, কেউবা অচেতন হয়ে পড়ে ছিলেন রক্তাক্ত অবস্থায়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কাজ সবসময়ই কঠিন, তবুও নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একে একে আহতদের উদ্ধার করতে থাকেন তারা। পরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দেন।

উদ্ধার করা আহতদের দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় বান্দরবান সদর হাসপাতাল-এ। সেখানে জরুরি বিভাগে একযোগে চিকিৎসা শুরু হয়। হাসপাতালের করিডোরজুড়ে তখন আহতদের কাতর শব্দ আর স্বজনদের উৎকণ্ঠা ভর করে ছিল।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ধীমান দাশ জানান, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। বিশেষ করে চারজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে।

এই দুর্ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে পাহাড়ি সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি এলাকায় গাড়ি চালাতে বিশেষ দক্ষতা ও সতর্কতা প্রয়োজন। সামান্য অসতর্কতা কিংবা অতিরিক্ত গতি বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

স্থানীয়দের মতে, সুয়ালক এলাকার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। আঁকাবাঁকা পথ, খাড়া ঢাল এবং পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ি ঢালু পথে নামার সময় বাসটির ব্রেক নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিয়েছিল অথবা চালক গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। তবে সঠিক কারণ জানতে তদন্তের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটন মৌসুমে বান্দরবানে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত পর্যটক ভিড় করেন। ফলে সড়কপথে যাত্রীবাহী বাসের চাপও বাড়ে। এই বাস্তবতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

এই দুর্ঘটনা শুধু আহতদের জন্য নয়, তাদের পরিবারের জন্যও এক গভীর দুঃসহ অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই আনন্দ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে এসে এখন হাসপাতালের বিছানায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বান্দরবানের এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সুন্দর পাহাড়ি পথ যতটা আকর্ষণীয়, ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই যাত্রী ও চালক—উভয়ের সচেতনতা এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নই পারে এমন দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত