গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে আরেক রক্তাক্ত দিন, একদিনেই নিহত ৫৯, আহত শতাধিক

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৯ বার

 

প্রকাশ: ১৮ জুলাই | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের ভয়াবহতা প্রতিদিনই নতুন মাত্রা নিচ্ছে। শুক্রবার নতুন করে ৫৯ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু সেই নিষ্ঠুরতা এবং অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতভর ও শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চালানো বিমান ও স্থল হামলায় গাজার বিভিন্ন অঞ্চলে এই প্রাণহানি ঘটে।

গাজার দক্ষিণাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়কেন্দ্রেও হামলা হয়েছে, যেখানে নারী ও শিশুরাও নিরাপদ ছিল না। দক্ষিণ গাজার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে চালানো হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন নারী এবং এক শিশু। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শুক্রবার রাতভর ইসরাইলি বাহিনীর ট্যাঙ্ক ও যুদ্ধবিমান একযোগে বোমাবর্ষণ করে গাজার মধ্যাঞ্চল ও গাজা সিটির ওপর। বুরেজি শরণার্থী শিবিরের আবু হালু স্কুলে পরিচালিত এক আক্রমণে কমপক্ষে চারজন নিহত হন। হামলাটি সরাসরি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে চালানো হয়, যেখানে বহু বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।

অন্যদিকে গাজা সিটির একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ভবনেও হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। সেই হামলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে দুজন শিশু বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এসব হামলার অনেকটাই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সামিল। যুদ্ধের সময় বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি মৌলিক মানবিক শর্ত হলেও, গাজায় তার বিপরীত চিত্রই উঠে আসছে।

এর আগের দিন, অর্থাৎ বুধবারও ছিল ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী। ওইদিন ইসরাইলি বাহিনীর বিমান ও ড্রোন হামলায় একদিনে ৯৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন ত্রাণ সংগ্রহের সময় নিহত হয়েছেন। ক্ষুধার তাড়নায় ত্রাণ নিতে গিয়ে মানুষ যখন ভিড় করছিলেন, তখন হামলার শিকার হন তারা। আহত হয়েছেন আরও অন্তত আড়াই শতাধিক।

বুধবার প্রকাশিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ওই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ৯৩টি মৃতদেহ পৌঁছেছে এবং নতুন করে ভর্তি করা হয়েছে ২৫২ জন আহতকে। আহতদের মধ্যে অনেকেই চরম দাহ্য পদার্থজনিত পোড়াধরনের আঘাতে ভুগছেন। অনেকের পা, হাত কিংবা চোখ হারানোর শঙ্কা রয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৫৮ হাজার ৬৬৭ জন। আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৪ জন। নিহতদের সিংহভাগই নারী ও শিশু। এই সহিংসতা শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, যখন হামাস ইসরাইলে হামলা চালিয়ে ১ হাজার ১৩৯ জনকে হত্যা করে এবং দুই শতাধিক ইসরাইলিকে জিম্মি করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল শুরু করে গণবিধ্বংসী হামলা, যার মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে পুরো গাজা উপত্যকা।

যুদ্ধের পরিসর শুধু সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ না থেকে সম্প্রসারিত হয়েছে হাসপাতাল, বিদ্যালয়, বাজার, মসজিদ এবং শরণার্থী শিবিরেও। বারবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও ইসরাইলি সামরিক কর্মকাণ্ডে কোনো বিরতি দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মহল, জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন একাধিকবার এই আগ্রাসনের নিন্দা জানালেও দৃশ্যমান কোনো চাপ কার্যকর হচ্ছে না।

এই মুহূর্তে গাজার পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে চিকিৎসা সেবা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের অভাবে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীরতর রূপ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব এই নিপীড়নের অবসান ঘটাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা—না হলে প্রতিদিনই বাড়বে মৃতের সংখ্যা, আরও ঝরে যাবে নিষ্পাপ প্রাণ।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত