বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়, শীর্ষে বেইজিং

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬
  • ০ বার

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বজুড়ে নগরায়ন, যানবাহনের চাপ এবং শিল্পকারখানার বিস্তারের ফলে বায়ুদূষণ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এই বাস্তবতায় আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে Dhaka, যেখানে সাম্প্রতিক এক পরিমাপে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দূষিত শহর হিসেবে অবস্থান করেছে রাজধানীটি। একই সময়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে Beijing

আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান IQAir-এর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সোমবার সকালে ঢাকার বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোর দাঁড়ায় ১৮৪-এ। এই মাত্রাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর অর্থ হলো, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্যও এই বায়ু দীর্ঘসময় গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্যদিকে, ১৯০ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে বেইজিং। দীর্ঘদিন ধরেই শিল্প দূষণ এবং নগর বিস্তারের কারণে শহরটি বায়ুদূষণের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য শহরগুলোর অবস্থানও উদ্বেগজনক। ১৭৫ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে Lahore এবং ১৬৪ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে Kolkata

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের সময় কিছুটা স্বস্তি মিললেও ছুটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। এর পেছনে রয়েছে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি, নির্মাণকাজের গতি বৃদ্ধি এবং শিল্প কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে ওঠা। কয়েকদিনের বিরতির পর যখন সবকিছু একসঙ্গে চালু হয়, তখন দূষণের মাত্রা হঠাৎ করেই বেড়ে যায়।

একিউআই বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স মূলত বায়ুর মান নির্ধারণের একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড। এই সূচকে শূন্য থেকে ৫০ স্কোরকে ভালো ধরা হয়, যেখানে বাতাসে দূষণের মাত্রা কম থাকে। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর মাঝারি মান নির্দেশ করে। ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। আর ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর মানে বায়ু সরাসরি অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। এই অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। আর ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায়ে পড়ে, যা পুরো নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় পুরনো যানবাহন, নির্মাণস্থলের ধুলাবালি, ইটভাটা এবং শিল্পকারখানার নির্গমন। শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম থাকায় এই দূষণ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বাতাসে ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণার মাত্রা বেড়ে গেলে তা শ্বাসযন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার, অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইন প্রয়োগের কঠোরতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, ঢাকার এই অবস্থান কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়—এটি একটি সতর্কবার্তা। নগরজীবনের ব্যস্ততার ভেতর আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিচ্ছি, তা কতটা নিরাপদ—সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এনে দিয়েছে এই প্রতিবেদন। এখন প্রয়োজন দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য শহর নিশ্চিত করা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত