দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে বদলাবে রাজবাড়ীর অর্থনীতি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজবাড়ীকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বড় ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন Ali Newaz Mahmud Khayyam। তার মতে, পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। এমনকি তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজবাড়ীর “প্রতিটি বালুকণা ও মাটি সোনায় পরিণত হবে।”

রোববার বিকেলে Rajbari District Shilpakala Academy Auditorium-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সংগঠন রাজবাড়ী ‘ল’ ফোরাম আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী, গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় অংশ নিয়ে তিনি উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বৃহৎ অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিনি দাবি করেন, এই প্রকল্পগুলো ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, Tarique Rahman ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারেও এই বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি প্রি-একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে এবং আসন্ন একনেক সভায় এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

তিনি আরও বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন কেবল একটি সেতু বা ব্যারেজ নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর সঙ্গে যুক্ত থাকে শিক্ষা, শিল্প, যোগাযোগ এবং কর্মসংস্থানের বিস্তৃত সুযোগ। তার ভাষায়, এই অঞ্চলে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক্যাল কলেজ, মেডিকেল কলেজ এবং নৌ-বন্দর স্থাপন করা গেলে রাজবাড়ী একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।

রাজবাড়ীতে একটি বড় রেলওয়ে ওয়ার্কশপ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। যদিও এই প্রকল্পটি বর্তমানে থমকে আছে, তবে তা বাস্তবায়ন হলে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে একটি ক্যান্টনমেন্ট স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলেও তা এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এসব প্রকল্প পুনরায় চালু করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

তার বক্তব্যে কৃষি ও শিল্পায়নের সমন্বিত উন্নয়নের বিষয়টিও উঠে আসে। তিনি বলেন, রাজবাড়ীর ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে স্থানীয় মানুষের আয় বাড়বে এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ী ‘ল’ ফোরামের সভাপতি কাজী আফরোজা। এতে আরও বক্তব্য দেন বিচারক মো. আকরাম হোসেন, চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হাবিবুল ইসলাম, লেজিসলেটিভ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এস এম শাফায়েত হোসেন এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মো. গরীবে নেওয়াজ। অনুষ্ঠানে উন্নয়ন, বিচারব্যবস্থা এবং সামাজিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন SM Kuddus Zaman, যিনি বিচার বিভাগের দৃষ্টিকোণ থেকে উন্নয়ন ও সুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে গুণীজনদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়, যা অনুষ্ঠানে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর মতো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে। এতে শুধু রাজবাড়ী নয়, আশপাশের জেলাগুলোর অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময়, ব্যয় এবং পরিকল্পনার সঠিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।

সব মিলিয়ে, প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য রাজবাড়ীকে ঘিরে নতুন স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিয়েছে। তবে এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে হলে প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা, স্বচ্ছ বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত এই উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো কত দ্রুত বাস্তব রূপ পায় এবং তা কতটা স্থায়ী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত