এপ্রিলের মধ্যে ঢাকার যানজট অনেকটা কমবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৬১ বার

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি যানজট নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের নেওয়া স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যেই ঢাকার যানজট পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যেতে পারে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

‘ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ শীর্ষক এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র, সমস্যার মূল কারণ এবং তা নিরসনের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে ঢাকা মহানগর পুলিশ, দুই সিটি করপোরেশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ, ডিটিসিএসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার ধাপে ধাপে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে চায়। তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদি যেসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব, সেগুলো ইতোমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে।

যদিও তিনি নির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে চাননি, তবে জানিয়েছেন, এগুলো শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তার ভাষায়, এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ এই স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে ঢাকার যানজট পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু স্বল্পমেয়াদি নয়, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটবে। এতে যানজট কমার পাশাপাশি নগরবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াত আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাজধানীর ট্রাফিক সিগন্যালগুলো দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেশন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সাতটি সিগন্যাল মোড়ে এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং খুব শিগগিরই আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এই প্রযুক্তি চালু করা হবে।

তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে ঢাকা শহরের প্রায় ১২০টি সিগন্যাল মোড়কে এই অটোমেশন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে এবং যানজট কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা করা গেলে যানজট অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

 

দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর যানজট নগরবাসীর জন্য এক বড় দুর্ভোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে, যার ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতিও কম নয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং কঠোর বাস্তবায়ন। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে বলা যায়, রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো, ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। যদি তা সম্ভব হয়, তাহলে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে বাস্তব অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত