প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের চলমান অর্থনৈতিক কর্মসূচি সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ। তিনি বলেন, আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করা এবং সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে, যার প্রভাব আগামী বাজেটে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ অর্থায়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের অর্থনীতির যে বাস্তব চিত্র পাওয়া গেছে, তা বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার এবং কর-জিডিপি অনুপাত কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় নেই। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনীতি একটি চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা সহজীকরণ, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের ওপর সরকার জোর দিচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে করে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সময়ে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত ছিল, সেগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করতে হলে আর্থিক খাতের সংস্কার আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আগামী জাতীয় বাজেটে এসব সংস্কারের প্রতিফলন থাকবে। বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনার চেষ্টা করা হবে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান কর্মসূচি সঠিকভাবে এগোচ্ছে এবং ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় নিয়ে আলোচনা চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে প্রায় একশ ত্রিশ কোটি ডলার পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বসন্তকালীন বৈঠকে বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে আলোচিত হবে। সেখানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনো চ্যালেঞ্জিং। তবে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বাংলাদেশ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য, আর সরকার সেই দিকেই এগোচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও অর্থায়ন সংক্রান্ত আলোচনা সাধারণত নীতিগত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের নিয়মিত আলোচনা চলছে এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
তিনি আরও বলেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পরবর্তী কিস্তি পাওয়া গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরে আসবে এবং অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরায় গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু অর্থায়ন নয়, বরং কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নই দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করবে। ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সব মিলিয়ে সরকার ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মধ্যে চলমান আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুনের মধ্যে সম্ভাব্য অর্থপ্রাপ্তি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সরকার এখন স্বল্পমেয়াদি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে নজর দিচ্ছে। সংস্কার কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্প পুনরুজ্জীবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে।