প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীতে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে অনিয়মের অভিযোগে দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়েছে। একই অভিযানে একটি ব্লাড ব্যাংককে জরিমানা করা হয়েছে, যার পরিমাণ ষাট হাজার টাকা।
বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর চানখারপুলসহ বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রম, সেবার মান, পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র যাচাই করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মোট পাঁচটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং একটি ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো সিলগালা করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়।
এছাড়া একটি ব্লাড ব্যাংকে পর্যাপ্ত মানসম্মত সেবা না থাকা এবং কিছু অনিয়মের কারণে জরিমানা করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রোগীদের নিরাপদ রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু পরিদর্শনে দেখা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানে সেই মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছিল না।
অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, জরুরি বিভাগ, মানসম্মত ল্যাব সুবিধা এবং যথাযথ প্যাথলজি ব্যবস্থাপনা না থাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকি ও ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে দেখা যায়, অভিযানের সময় বেশ কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় এবং অনেকেই তড়িঘড়ি করে কাগজপত্র দেখানোর চেষ্টা করেন। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আরও জানান, রাজধানীতে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান চলবে। রোগীদের নিরাপদ সেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাই এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
এদিকে এই অভিযানের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে মানহীন সেবা ও অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ ছিল। এমন অভিযানে সেবার মান উন্নত হবে বলে আশা করছেন তারা।
অন্যদিকে কিছু প্রতিষ্ঠান মালিক অভিযোগ করেছেন, কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক সময় সমস্যা তৈরি হয়। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরেই একটি উদ্বেগের বিষয়। যথাযথ তদারকি না থাকলে রোগীরা ভুল রিপোর্ট এবং নিম্নমানের সেবার শিকার হন, যা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তারা আরও বলেন, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং রোগীরা সঠিক সেবা পাবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও কঠোর অভিযান চালানো হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে রাজধানীতে পরিচালিত এই অভিযানে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়েছে স্বাস্থ্য প্রশাসন। একই সঙ্গে রোগীদের নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।