প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
গাইবান্ধার সদর উপজেলায় সম্পত্তির ভাগ নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার কবর ভাঙচুরের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। জমির অংশ কম পাওয়ার অভিযোগ তুলে এক ছেলে তার মৃত বাবার কবরের বেড়া ভেঙে তছনছ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার আনালেরতাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের মৃত আবদুল মান্নানের ছোট ছেলে শাহ আলম বাবার কবরের চারপাশের বাঁশের বেড়া ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি উত্তেজিত অবস্থায় কবরের চারপাশে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন এবং লাথি মেরে বেড়া ভেঙে ফেলেন। এ সময় তার মুখে অসংলগ্ন কথাবার্তা ও গালিগালাজ শোনা যায়।
স্থানীয়রা জানান, আবদুল মান্নান জীবদ্দশায় তার পাঁচ ছেলের মধ্যে প্রায় চার বিঘা জমি বণ্টন করে দেন। তবে সম্পত্তি বণ্টনে অসামঞ্জস্য ছিল বলে পরে অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে দ্বিতীয় ছেলেকে তুলনামূলক বেশি জমি দেওয়া হয়েছে এবং ছোট ছেলে শাহ আলম কম জমি পেয়েছেন—এই অভিযোগ থেকেই পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে দাবি এলাকাবাসীর।
ঘটনার দিন বেলা দেড়টার দিকে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে শাহ আলম বাবার কবরস্থানে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কবরের চারপাশে থাকা বেড়া ভেঙে ফেলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন এবং পরে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
এদিকে ঘটনার ৪৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কালো প্যান্ট ও ফুলহাতা গেঞ্জি পরা এক যুবক কবরের চারপাশে লাগানো বাঁশ ও প্লাস্টিকের বেড়া ভাঙছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
স্থানীয়রা জানান, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় ক্ষোভ ও নিন্দার প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই এমন ঘটনার জন্য পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় রূপ নেয়।
ঘটনার পর খোলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য আবদুল হাই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেখানে যান এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
খোলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম হাক্কানীও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং পারিবারিক বিরোধের এমন প্রকাশ সমাজের জন্য অশুভ বার্তা দেয়।
এদিকে অভিযুক্ত শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে বিরোধ বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এর চূড়ান্ত রূপ হিসেবে বাবার কবর ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়কে নির্দেশ করে।
তারা আরও বলেন, সম্পত্তি বিরোধ পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট করে দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে এমন চরম পরিস্থিতি তৈরি করে যা সমাজের জন্য বিব্রতকর। তাই পরিবারিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং বিরোধ মীমাংসায় স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক নেতৃত্বকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, এমন ঘটনা শুধু পারিবারিক নয়, সামাজিক মূল্যবোধের জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা। মৃত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ লঙ্ঘন করে এমন আচরণ সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে গাইবান্ধার এই ঘটনা সম্পত্তি বিরোধের ভয়াবহ রূপ এবং পারিবারিক সম্পর্কের ভাঙনের এক দুঃখজনক উদাহরণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই ধরনের বিরোধ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।