প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বলিউড অভিনেতা Varun Dhawan বর্তমানে ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন সময় পার করছেন। সম্প্রতি তিনি প্রকাশ করেছেন যে তাঁর দেড় বছরের কন্যা লারা একটি বিরল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত, যা পরিবারে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ তৈরি করেছে। ২০২৪ সালে বাবা হওয়া বরুণ জানিয়েছেন, এই সময় তাঁর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বরুণের মেয়েকে ডিডিএইচ বা ‘ডেভেলপমেন্টাল ডিসপ্লেসিয়া অব দ্য হিপ’ নামক একটি রোগ ধরা পড়েছে। এই রোগ শিশুদের কোমরের হাড়ের সঠিক গঠনকে প্রভাবিত করে, যার ফলে হিপের একটি হাড় কমজোরি হয়ে অন্যটির তুলনায় বেরিয়ে আসে। ফলস্বরূপ, শিশুর পা একটির তুলনায় অন্যটি লম্বা হতে পারে, যা স্বাভাবিকভাবে হাঁটা-চলায় সমস্যা সৃষ্টি করে। সঠিক চিকিৎসা না হলে ভবিষ্যতে বাতের ব্যথা বা স্লিপ ডিস্কের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বরুণ জানিয়েছেন, এই রোগের চিকিৎসা অনেক কষ্টসাধ্য। ছোট শিশুদের ‘স্পাইকা কাস্ট’ নামক বিশেষ ব্রেস ব্যবহার করতে হয়। লারাকে প্রায় আড়াই মাস এই কাস্ট পরে থাকতে হয়েছে। বরুণ স্মরণ করে বলেন, মেয়েকে অজ্ঞান করে এই কাস্ট পরানো হতো, যা একজন বাবার জন্য দেখার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। তবে তিনি স্বস্তির সঙ্গে জানান, এখন লারাকে আর কাস্ট পরতে হচ্ছে না এবং কোনো অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন পড়েনি।
এই কঠিন সময়ে বরুণের মানসিক অবস্থা নিঃসন্দেহে প্রভাবিত হয়েছে। তিনি জানান, কাজের ক্ষেত্রে সম্প্রতি তাঁর কিছু সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশেষ করে ‘বর্ডার ২’ ছবিতে অভিনয়ের পর থেকে দর্শক এবং সমালোচকরা তাঁর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবুও তিনি জানান, এই কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় সহায়তা ও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তাঁর বাবা, বলিউড পরিচালক David Dhawan থেকে।
বরুণ বলেন, সন্তানকে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বড় করতে দেখার অভিজ্ঞতা একজন পিতার জীবনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। লারার স্বাস্থ্য সমস্যা তাঁর জীবনে দুশ্চিন্তা ও আবেগের মিশ্রণ তৈরি করেছে। তিনি প্রকাশ করেছেন, বাবা হিসেবে প্রতিটি মুহূর্তে সন্তানের জন্য উদ্বিগ্ন থাকা স্বাভাবিক, বিশেষত যখন রোগটি বিরল এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া জটিল।
বলিউডের অগণিত ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে বরুণের এই ব্যক্তিগত গল্প একটি মানবিক পরিচয় ফুটিয়ে তুলেছে। একজন অভিনেতা হিসেবে তিনি ক্যামেরার সামনে যেমন শক্তিশালী, বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জে তেমনি মানবিক ও সংবেদনশীল। সামাজিক মাধ্যমে ভক্তরা তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং ছোট্ট লারার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন।
বরুণের মতে, ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং পিতৃত্বের দায়িত্ব একে অপরের সঙ্গে মিশে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তিনি জানিয়েছেন, নিজের সন্তানকে সুস্থ দেখতে পাওয়া তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে বাবা হিসেবে আরও দৃঢ় ও সংবেদনশীল করেছে।
বরুণের অভিজ্ঞতা একই সঙ্গে অন্যান্য পিতামাতাদের জন্যও একটি শিক্ষা দিচ্ছে—সন্তানের স্বাস্থ্য ও সুখের জন্য প্রয়োজন মানসিক প্রস্তুতি, ধৈর্য ও সতর্কতা। তিনি বলেন, “প্রতিটি পিতা-মাতা চাইবেন তাদের সন্তান স্বাভাবিকভাবে বড় হোক, স্বস্তি ও নিরাপদ পরিবেশে। এই সময়টাই একজন পিতার জন্য সবচেয়ে কঠিন, কিন্তু সবচেয়ে মূল্যবানও।”
এছাড়া বরুণের পেশাগত জীবনও এই সময়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। সমালোচনার মধ্যেও তিনি নিজের পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে চলেছেন। অভিনেতা হিসেবে ক্যারিয়ারের ওঠাপড়া থাকা সত্ত্বেও, বাবা হিসেবে তিনি লারার সঠিক চিকিৎসা ও যত্ন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা করেছেন।
বরুণের ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্পে মানবিক স্পর্শ রয়েছে, যা তাঁর ভক্তদের সঙ্গে গভীর সংযোগ তৈরি করছে। তার বাবা, পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান, পরিবারের পাশে থাকা এবং সন্তানকে সঠিক পথে সাহায্য করার জন্য বরুণকে মানসিক সহায়তা দিয়েছেন। এই পারিবারিক সমর্থন তাকে মানসিক শক্তি প্রদান করেছে।
বর্তমানে লারা সুস্থ আছেন এবং তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বরুণ জানিয়েছেন, এখন তিনি আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক পিতা হিসেবে লারার পাশে রয়েছেন। ভবিষ্যতে তাঁর জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ হবে সন্তানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সুস্থতার দিকে মনোনিবেশিত।
এই সংবাদটি প্রকাশের মাধ্যমে বলা যায় যে, বলিউডের আলোচনায় থাকা ব্যক্তিগত জীবনের গল্পগুলোও মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস হতে পারে। বরুণ ধাওয়ানের এই অভিজ্ঞতা শুধু একজন পিতার দায়িত্ববোধই নয়, বরং পরিবার ও পেশাগত জীবনের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখার মানবিক দৃষ্টিকোণও ফুটিয়ে তোলে।