ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দরে বাণিজ্যের গতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার
ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দরে বাণিজ্যের গতি

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মহান বিজয় দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল-পেট্রাপোল। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বন্দরের সর্বত্র দেখা গেছে কর্মব্যস্ততা। দীর্ঘ বিরতির পর ট্রাকের সারি, শ্রমিকদের ব্যস্ততা এবং ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে আবারও চেনা ছন্দে ফিরেছে সীমান্ত বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

গত ২৬ মার্চ মহান বিজয় দিবস এবং ২৭ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বেনাপোল বন্দরে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন বন্ধ ছিল। ফলে সীমান্তের উভয় পাশে তৈরি হয় পণ্যজট। বহু ট্রাক পণ্য নিয়ে অপেক্ষায় ছিল বন্দর এলাকায়। ছুটি শেষে শনিবার সকাল থেকেই ধীরে ধীরে সেই জট কমতে শুরু করেছে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি সচল হয়ে উঠবে।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, ছুটির কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে শনিবার সকাল থেকে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বন্দরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, সীমান্তের দুপাশে পণ্যবাহী ট্রাক জমে থাকায় কিছুটা জট তৈরি হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে পণ্য খালাসের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য দ্রুত ছাড় করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও সহযোগিতা করছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ১২৮ ট্রাক পণ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। একই সময়ে বন্দর থেকে ৮৭ ট্রাক পণ্য খালাস করা হয়েছে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় ট্রাক চালক, শ্রমিক এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বন্দরের ভেতরে পণ্য লোড ও আনলোডের কাজে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক অংশ নিয়েছেন, যা বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পণ্য পরিবহন কার্যক্রম সচল হওয়ায় ব্যবসায়ী, সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের মধ্যেও ব্যস্ততা বেড়েছে। পণ্য দ্রুত ছাড় করতে সংশ্লিষ্টরা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছেন। বিশেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জমে থাকা পণ্য খালাস করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ২৬ ও ২৭ মার্চ সরকারি ছুটির কারণে বন্দরে কোনো আমদানি-রফতানি কার্যক্রম হয়নি। ছুটি শেষে শনিবার থেকে আবারও দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি জানান, বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন এবং ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত পণ্য খালাস নিতে পারেন সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট স্থলবাণিজ্যের বড় একটি অংশ এই বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়। ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের ভোগ্যপণ্য, কাঁচামাল এবং শিল্পপণ্য আমদানি করা হয় এই বন্দর দিয়ে। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রফতানি করা হয়। ফলে বন্দর কার্যক্রম বন্ধ থাকলে এর প্রভাব সরাসরি ব্যবসা-বাণিজ্যে পড়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছুটির কারণে বাণিজ্য কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। সীমান্ত বাণিজ্যের গতি বজায় রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস বিভাগ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে ছুটির সময় বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে পণ্যজট কম হবে। একই সঙ্গে দ্রুত পণ্য ছাড়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়িক ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত বাণিজ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেনাপোল বন্দরের কার্যক্রম সচল থাকলে দেশের বিভিন্ন শিল্প খাত প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সময়মতো পায়, যা উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সচল রাখে। একইভাবে রফতানি পণ্য সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছালে বৈদেশিক বাণিজ্যও শক্তিশালী হয়।

ছুটি শেষে আবারও বেনাপোল বন্দরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্যের এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বন্দরের কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত