প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে এবং সরাসরি তদারকি জোরদার করতে সচিবালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে রাজধানীর প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়-এ উপস্থিত হয়ে তিনি নির্ধারিত প্রোটোকল ভেঙে নিজ দফতরে না গিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখেন, যা প্রশাসনিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সকাল ৯টার কিছুক্ষণ পর সচিবালয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সাধারণত সরকারি সফরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কর্মসূচি ও আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করা হলেও এদিন তিনি সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসেন। গাড়ি থেকে নেমেই সরাসরি হেঁটে চলে যান ৬ নম্বর ভবনের দিকে। সেখানে প্রথমে তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি শুধু আনুষ্ঠানিকতা সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং কাজের অগ্রগতি, সেবার মান এবং দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নিয়ে সরাসরি খোঁজখবর নেন। কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানতে চান বিভিন্ন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়গুলো।
এরপর একই ভবনের বিভিন্ন তলায় অবস্থিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পানি সম্পদ, নারী ও শিশু বিষয়ক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তিনি কাজের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন এবং কর্মরতদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তার এই সরাসরি উপস্থিতি কর্মকর্তাদের মধ্যে একধরনের চমক তৈরি করে, তবে একই সঙ্গে দায়িত্বশীলতার বার্তাও পৌঁছে দেয়।
পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী ৫ নম্বর ভবনে গিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। এরপর ৩ নম্বর ভবনে অবস্থিত বাণিজ্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়েও তিনি আকস্মিকভাবে প্রবেশ করেন। এভাবে সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবনে অবস্থিত অন্তত আটটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে জবাবদিহিতা বাড়ে এবং কাজের গতি ত্বরান্বিত হয়। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সরাসরি জানার সুযোগও তৈরি হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে অনেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দাপ্তরিক কাগজপত্রের বাইরে গিয়ে সরাসরি বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করলে নীতিনির্ধারণ আরও কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে জনসেবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর ক্ষেত্রে এই ধরনের নজরদারি সাধারণ মানুষের জন্য উপকার বয়ে আনতে পারে।
তবে প্রশাসনিক মহলে কিছুটা চাপও তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ আকস্মিক পরিদর্শন মানেই প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকার একটি বার্তা। এতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কাজের মান উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এদিকে, দিনের বাকি সময়েও প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত থাকবেন বিভিন্ন নির্ধারিত কর্মসূচিতে। সকালে কৃষক কার্ড সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে তার। এতে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, অর্থ, কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমান-এর এই আকস্মিক পরিদর্শন শুধু একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, বরং এটি সরকারের কাজের গতি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রশাসনের ভেতরে নতুন এক কর্মসংস্কৃতি গড়ে ওঠার ইঙ্গিতও মিলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।