বিরাটের ঝড়ো ইনিংসে একপেশে জয় পেল আরসিবি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৯ বার

প্রকাশ: ২৯ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বেঙ্গালুরুর এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আইপিএল ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচটি পরিণত হলো এক আবেগঘন ও একপেশে লড়াইয়ে, যেখানে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি স্মরণ করা হলো অতীতের এক বেদনাবিধুর অধ্যায়। গত বছরের আরসিবির ট্রফি উদযাপনের সময় পদদলিত হয়ে প্রাণ হারানো ১১ জন সমর্থকের স্মরণে এদিন কোনো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রাখা হয়নি। ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়, যা পুরো স্টেডিয়ামকে আবেগে আচ্ছন্ন করে তোলে।

ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই শক্তিশালী দল—রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আরসিবির অধিনায়ক রজত পাতিদার। শুরু থেকেই ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দেয় স্বাগতিক দল।

হায়দরাবাদের ইনিংসে শুরুটা ছিল হতাশাজনক। ট্র্যাভিস হেড এবং অভিষেক শর্মা ব্যাট হাতে বড় কিছু করতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে অভিষেক শর্মা স্বল্প রানে ফিরে গেলে চাপ বাড়ে দলের ওপর। তবে মাঝের ওভারে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন ঈশান কিষাণ এবং হেনরিখ ক্লাসেন। তাঁদের ৯৭ রানের জুটি দলকে কিছুটা স্থিতি দেয়। ঈশান কিষাণের ব্যাট থেকে আসে ৩৮ বলে ৮০ রানের ঝড়ো ইনিংস। অন্যদিকে ক্লাসেন করেন ৩১ রান। শেষ দিকে অনিকেত ভার্মার ১৮ বলে ৪৩ রানের ইনিংস হায়দরাবাদকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করতে সহায়তা করে। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা ৯ উইকেটে সংগ্রহ করে ২০১ রান।

বোলিংয়ে আরসিবির হয়ে নজর কাড়েন জেকব ডাফি এবং রোমারিও শেপার্ড। ডাফি তার অভিষেক ম্যাচেই ৩ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। তার সঙ্গে সমান তালে পারফর্ম করেন শেপার্ড, যিনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং হায়দরাবাদকে বড় সংগ্রহের পরও পুরোপুরি স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি।

২০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে আরসিবি। ওপেনার ফিল সল্ট দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করলেও ব্যক্তিগত ৮ রানে ফিরে যান। তবে এরপরই ইনিংসের মোড় ঘুরিয়ে দেন দেবদত্ত পাদিক্কাল। তিনি ২৬ বলে ৬১ রানের এক বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন, যা দলের রান তাড়াকে শক্ত ভিত দেয়। অধিনায়ক রজত পাতিদারও ১২ বলে ৩১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে দলকে এগিয়ে নেন।

ম্যাচের আসল নায়ক হয়ে ওঠেন Virat Kohli। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার পরও তার ব্যাটিংয়ে কোনো ছন্দপতন দেখা যায়নি। তিনি ৩৮ বলে অপরাজিত ৬৯ রান করে ম্যাচ একাই শেষ করে দেন। তার ইনিংসে ছিল নিখুঁত টাইমিং, আত্মবিশ্বাস এবং অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। মাঝের ওভারে যখন দুই-একটি উইকেট পড়ে গিয়ে চাপ তৈরি হয়েছিল, তখন কোহলির উপস্থিতি যেন পুরো ড্রেসিংরুমে স্থিরতা এনে দেয়। তার সঙ্গে শেষদিকে অপরাজিত থাকেন টিম ডেভিড, যিনি ১০ বলে ১৬ রান করে জয় নিশ্চিত করেন।

হায়দরাবাদের হয়ে বোলিংয়ে চেষ্টা করলেও খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি David Payne। যদিও তিনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কোহলির দৃঢ় ব্যাটিং সেই সম্ভাবনা নষ্ট করে দেয়। ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে পরপর উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সানরাইজার্স Sunrisers Hyderabad, যা শেষ পর্যন্ত তাদের পরাজয়ের পথ তৈরি করে।

অন্যদিকে, Royal Challengers Bengaluru তাদের শক্তিশালী ব্যাটিং গভীরতা এবং বোলিং শৃঙ্খলার মাধ্যমে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রাখে। অধিনায়ক রজত পাতিদারের কৌশলও ছিল প্রশংসনীয়, বিশেষ করে বোলিং পরিবর্তন এবং ফিল্ড সেটিংয়ে তার সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

পুরো ম্যাচজুড়ে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম ছিল আবেগ ও উত্তেজনায় ভরপুর। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা কোহলির প্রতিটি শটে উল্লাসে ফেটে পড়েন। ম্যাচ শেষে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ছিল একটাই—আরসিবি এবার সত্যিই একটি শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে শুরু করেছে।

এই ম্যাচে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল দলগত ভারসাম্য। নতুন ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে গঠিত আরসিবি একসঙ্গে পারফর্ম করে একটি বার্তা দিয়েছে যে তারা কেবল একটি তারকা নির্ভর দল নয়, বরং একটি সুসংগঠিত ইউনিট। বিশেষ করে বোলারদের কার্যকর পারফরম্যান্স এবং ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল ইনিংস দলটিকে এগিয়ে রেখেছে।

ম্যাচ শেষে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তাহলে Royal Challengers Bengaluru এবারের আসরে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে Virat Kohli যদি এই ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তবে প্রতিপক্ষ দলের জন্য এটি হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে, আইপিএল ২০২৬-এর প্রথম ম্যাচটি কেবল একটি জয় নয়, বরং আবেগ, স্মৃতি এবং পারফরম্যান্সের এক অনন্য সংমিশ্রণ হয়ে রইল। চিন্নাস্বামীতে গ্যালারি ভরিয়ে দেওয়া সমর্থকদের জন্য এটি ছিল এক স্মরণীয় সন্ধ্যা, যেখানে ক্রিকেটের সৌন্দর্য এবং মানবিক অনুভূতি একসাথে মিশে গিয়েছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত