ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে ৮০ লাখ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৩ বার

প্রকাশ: ২৯ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘নো কিংস’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ অংশ নেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ মার্চ) এই কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ নাগরিকরা, যেখানে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, No Kings protests মূলত যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষা এবং ক্ষমতার এককেন্দ্রিক প্রবণতার বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। আন্দোলনকারীরা মনে করেন, দেশের শাসনব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তির একচ্ছত্র কর্তৃত্ব গ্রহণযোগ্য নয়। তারা স্লোগানের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেন যে যুক্তরাষ্ট্রে “কোনো রাজার স্থান নেই”।

আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, এই বিক্ষোভে দেশের ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকে মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বড় শহর থেকে শুরু করে ছোট শহর পর্যন্ত সর্বত্রই একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও স্লোগানের মাধ্যমে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

গত বছরের অক্টোবরেও একই ধরনের ‘নো কিংস’ আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় ১০ লাখ বেশি বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এতে বোঝা যায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আন্দোলনের প্রতি মানুষের সমর্থন বাড়ছে এবং জনঅসন্তোষও তীব্র হচ্ছে।

Donald Trump ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই ধরনের বিক্ষোভের সূচনা ঘটে। সমালোচকদের মতে, তার কিছু নীতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, অভিবাসন নীতি কঠোর করা, ব্যাপক হারে প্রবাসীদের আটক করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো, গর্ভপাত সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং পরিবেশ সংক্রান্ত নীতিমালা—এসব ইস্যুতে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। এসব নীতির বিরুদ্ধেই মূলত ‘নো কিংস’ আন্দোলন গড়ে উঠেছে।

আন্দোলনের আয়োজকরা বলছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি বৃহত্তর বার্তা দেওয়ার চেষ্টা—যেখানে নাগরিকরা তাদের অধিকার, স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার দাবি জানাচ্ছেন। তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত যাতে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকে এবং জনগণের মতামত সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।

বিক্ষোভ চলাকালে বেশ কিছু শহরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও কোথাও কোথাও উত্তেজনাও দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের বৃহৎ আকারের বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি শুধু একটি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকারের প্রতি জনগণের অবস্থানকেও তুলে ধরে।

সব মিলিয়ে, ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ আবারও প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব নিয়ে জনমতের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এই আন্দোলন কতটা বিস্তৃত হয় এবং এর প্রভাব কতদূর পর্যন্ত গড়ায়, তা সময়ই বলে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত