৪১ লাখের বেশি রিটার্ন দাখিল, সময় বৃদ্ধিতে সাড়া

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৩ বার

প্রকাশ: ২৯ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আয়কর রিটার্ন দাখিল কার্যক্রমে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি করবর্ষে এখন পর্যন্ত ৪১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি করদাতা তাদের রিটার্ন দাখিল করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে অনলাইনে সময় বৃদ্ধির আবেদনেও করদাতাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

National Board of Revenue রোববার (২৯ মার্চ) এক সংবাদ বিবৃতিতে জানায়, নতুন অনলাইন সিস্টেম চালুর পর থেকে করদাতারা সহজেই রিটার্ন দাখিল ও সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে পারছেন। এতে প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫০ লাখের বেশি করদাতা নিবন্ধন নিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ৪১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অর্থাৎ একটি বড় অংশ করদাতা ইতোমধ্যেই তাদের আয়কর সংক্রান্ত দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন।

চলতি বছর আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সব ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাকে ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে রিটার্ন জমা দিতে হচ্ছে। এই ডিজিটাল পদ্ধতি করদাতাদের জন্য সময় ও শ্রম সাশ্রয়ী হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এনবিআর আরও জানিয়েছে, রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা করদাতাদের সুবিধার্থে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা রিটার্ন জমা দিতে পারবেন না, তারা অনলাইনে আবেদন করে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

অনলাইনে সময় বৃদ্ধির জন্য “Time Extension” নামে একটি বিশেষ অপশন চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে করদাতারা তাদের নিজস্ব অ্যাকাউন্টে লগইন করে সহজেই আবেদন করতে পারছেন। আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর কমিশনার অনলাইনে তা যাচাই করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

সংস্থাটির মতে, ইতোমধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি করদাতা সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছেন এবং তাদের আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় করদাতারা কোনো ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন না।

সময়সীমা বৃদ্ধির সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, ৩১ মার্চের মধ্যে অবশ্যই অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন অনুমোদিত হলে করদাতারা বর্ধিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত কর ছাড়াই রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল রিটার্ন সিস্টেম চালু হওয়ায় কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ছে। একই সঙ্গে করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হওয়ায় রিটার্ন দাখিলের হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের করদাতারা একইভাবে সুবিধা নিতে পারছেন।

তবে এখনো কিছু করদাতা সময়মতো রিটার্ন দাখিল করতে না পারায় সময় বৃদ্ধির আবেদন করছেন। এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা এই প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করতে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে করদাতাদের কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়।

সব মিলিয়ে, আয়কর রিটার্ন দাখিল কার্যক্রমে চলতি বছরে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সময় বৃদ্ধির সুযোগ এবং অনলাইন সিস্টেমের সহজলভ্যতা করদাতাদের মধ্যে অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত