প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলীয় গভীরতা যাচাই করতে গিয়ে একেবারে ভিন্ন একাদশ নামিয়েও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে France national football team। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে শক্তিশালী Colombia national football team-কে ৩-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় করল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কোচ Didier Deschamps এই ম্যাচে পুরো একাদশ বদলে দিলেও মাঠে তার দলের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট, যা আসন্ন বড় টুর্নামেন্টের আগে ফরাসি শিবিরে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
গত ম্যাচে Kylian Mbappé ও Hugo Ekitike-র গোলে ব্রাজিলকে হারানোর পর দেশম এবার ভিন্ন কৌশল নেন। তরুণ ও কম খেলার সুযোগ পাওয়া ফুটবলারদের দিয়ে সাজানো দলও যে আন্তর্জাতিক মানের পারফরম্যান্স দিতে পারে, সেটিই যেন প্রমাণ করলেন তিনি। ম্যাচের শুরুতে দুই দলই সতর্ক অবস্থানে থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্স বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নেয় এবং আক্রমণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়েই গোলের দেখা পায় ফ্রান্স। ২৯তম মিনিটে বক্সের ভেতর প্রতিপক্ষের ডিফেন্সিভ ভুলের সুযোগ কাজে লাগান তরুণ মিডফিল্ডার Désiré Doué। নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি। গোলটি শুধু দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, ব্যক্তিগতভাবেও এটি তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। এরপর ৪১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন Marcus Thuram। ডান দিক থেকে আসা নিখুঁত ক্রসে শক্তিশালী হেডে গোল করে ফ্রান্সকে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল অব্যাহত রাখে ফ্রান্স। ৫৬তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন দিসায়ের দুয়ে। ম্যাচজুড়ে তার গতিময়তা ও বল নিয়ন্ত্রণ ছিল চোখে পড়ার মতো। পরবর্তীতে ৬৩তম মিনিটে তাকে তুলে নিয়ে একিটিকে’কে মাঠে নামান দেশম, যা তরুণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা দেওয়ার কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে কলম্বিয়ার আক্রমণভাগে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি দলের দুই তারকা James Rodríguez এবং Luis Díaz। ফ্রান্সের শক্তিশালী ডিফেন্স ও মিডফিল্ড প্রেসিংয়ের কারণে তারা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেননি। তবে ম্যাচের শেষদিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে কলম্বিয়া। ৭৭তম মিনিটে Jhon Arias একটি গোল শোধ দিলে স্কোরলাইন ৩-১ হয়। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে ম্যাচে ফেরার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেনি তারা।
ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এমবাপ্পে। তার গতির ঝলক দেখা গেলেও গোলের দেখা পাননি তিনি। একবার নিশ্চিত গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়। তবুও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত নিজেদের হাতেই রাখে ফ্রান্স এবং আত্মবিশ্বাসী জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো ফরাসি স্কোয়াডের গভীরতা। মূল একাদশের বাইরে থাকা খেলোয়াড়রাও আন্তর্জাতিক ম্যাচে চাপ সামলে সফলভাবে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হলে বেঞ্চের শক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর সেই জায়গায় ফ্রান্স বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
কোচ দেশম ম্যাচ শেষে বলেন, দলের প্রতিটি খেলোয়াড়কে প্রস্তুত রাখা তার অন্যতম লক্ষ্য। তার মতে, বড় টুর্নামেন্টে ইনজুরি, ফর্ম বা কৌশলগত কারণে যেকোনো সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই বিকল্প খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিট রাখা এবং আত্মবিশ্বাসী করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। কলম্বিয়ার বিপক্ষে জয় সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন তিনি।
বিশ্ব ফুটবলে ফ্রান্স বরাবরই শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান ফুটবলাররা জাতীয় দলে জায়গা করে নিচ্ছেন, যা দলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করছে। অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে তৈরি এই দল বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি সঠিক পথে এগিয়ে নিচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে কলম্বিয়ার জন্য ম্যাচটি ছিল নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করার সুযোগ। দক্ষিণ আমেরিকার দলটি মাঝমাঠে বল ধরে রাখলেও শেষ পর্যন্ত ফিনিশিংয়ে ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। দলটির কোচিং স্টাফ মনে করছেন, বড় প্রতিযোগিতায় ভালো করতে হলে আক্রমণভাগে আরও ধার বাড়াতে হবে।
সব মিলিয়ে প্রীতি ম্যাচ হলেও ফ্রান্সের পারফরম্যান্স ছিল প্রতিযোগিতামূলক মানের। খেলোয়াড়দের সমন্বয়, আক্রমণের ধার এবং রক্ষণভাগের স্থিরতা—সবকিছু মিলিয়ে দলটি বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করেছে। বিকল্প একাদশের এমন দাপুটে জয় ফুটবল বিশ্বকে আবারও মনে করিয়ে দিল, কেন ফ্রান্সকে সবসময় শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে ধরা হয়।