২০০ কোটি টাকার জন্য বন্ধ হলো হাজার কোটি টাকার কারখানা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
২০০ কোটি টাকার জন্য বন্ধ হলো হাজার কোটি টাকার কারখানা

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মাত্র ২০০ কোটি টাকার জন্য হাজার কোটি টাকার কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনা : নবনির্বাচিত সরকারের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অগ্রাধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

শওকত আজিজ রাসেল বৈঠকে বলেন, “আমাদের দেশে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠা বা নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই সরকার কতটা প্রাধান্য দেবে, তা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। ইতিমধ্যে ৩৫০টি গার্মেন্টস এবং ৫০টির বেশি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিটি টেক্সটাইল মিলই একেকটি হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের অংশ, অথচ মাত্র ২০০ কোটি টাকার জন্য এই স্থাপনা বন্ধ হয়ে গেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “কারখানাগুলো পুনরায় সচল করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। শুধু ঋণ পুনঃতফসিল বা রিশিডিউল করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। আমরা সবসময় রিশিডিউলকে একটি সহজ উপায় হিসেবে বিবেচনা করি, কিন্তু এটি একমাত্র সমাধান নয়। ব্যাংক শুধু তার বুক ক্লিয়ার করার জন্য রিশিডিউল করছে, কিন্তু প্রকৃত সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। ছয় মাস, দুই মাস এইভাবে করা হচ্ছে, অথচ শিল্প সচল করতে রিফিন্যান্সিংও জরুরি।”

শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “যখন একটি কারখানার আয়োজিত বিনিয়োগ হাজার কোটি টাকা, অথচ সামান্য ২০০ কোটি টাকার কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন এটি পুরো শিল্প খাতের জন্য বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি করে। এটি শুধুমাত্র ব্যবসায়িক ক্ষতির বিষয় নয়, বরং হাজার হাজার কর্মীর জীবনের নিরাপত্তা এবং পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।”

বৈঠকে উপস্থিত শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা জানান, টেক্সটাইল মিলগুলো বন্ধ হওয়ায় শুধু উৎপাদন বন্ধ হচ্ছে না, বরং পুরো সরবরাহ চেইনও ব্যাহত হচ্ছে। কাঁচামাল সরবরাহ থেকে শুরু করে তৈরি পণ্য বাজারজাত পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের ওপর প্রভাব পড়ছে। এতে কর্মীরা চাকরি হারাচ্ছেন, এবং দেশের রপ্তানি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিটিএমএর সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে কারখানাগুলো সচল করা হলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাঁচবে, উৎপাদন বাড়বে এবং দেশীয় রপ্তানি খাতের ওপর চাপও কমবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই সরকারের নীতি সমন্বয় ও ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে এই শিল্পগুলো পুনরায় সচল হোক। না হলে এই ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি হবে এবং নতুন বিনিয়োগকারীর জন্যও ভয়ঙ্কর বার্তা হয়ে যাবে।”

শওকত আজিজ রাসেল এই পরিস্থিতি সরকারের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ঋণের সময়সীমা বাড়ানো নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রিফিন্যান্সিং ও বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে শিল্প সচল করার পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তার মতে, এটি বাংলাদেশে টেক্সটাইল খাতকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল রাখার একমাত্র উপায়।

বিটিএমএর নেতারা উল্লেখ করেছেন, “একটি মিল বন্ধ হওয়া মানে শুধু একটি ব্যবসার ক্ষতি নয়, বরং সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, তাদের পরিবার, সরবরাহকারী এবং পুরো অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়ছে। তাই দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিলে দেশের শিল্প খাত পুনরায় সক্রিয় হতে পারে।”

শওকত আজিজ রাসেলের মতে, নবনির্বাচিত সরকারকে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অগ্রাধিকার হিসেবে নতুন শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান শিল্প পুনরায় সচল করার ওপর মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ না নিলে দেশের উৎপাদন খাত বিপর্যয়ে পড়তে পারে, এবং রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে।”

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে টেক্সটাইল খাতের অবদান বিশাল। এটি শুধুমাত্র দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস নয়, বরং হাজার হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভর করছে এই শিল্পের ওপর। তাই টেক্সটাইল মিলগুলো বন্ধ থাকা বা পুনরায় সচল না হওয়া অর্থনৈতিক দিক থেকে দেশকে ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।

শওকত আজিজ রাসেল বৈঠকে আরও উল্লেখ করেছেন, “একটি মিলের বন্ধ হওয়া মানে স্থানীয় অর্থনীতি, শ্রমিকদের জীবনমান এবং দেশের আন্তর্জাতিক রপ্তানিতে বিরূপ প্রভাব। তাই সরকার ও ব্যাংককে একযোগে কাজ করতে হবে। রিশিডিউল ও রিফিন্যান্সিং মিলে একসাথে করা হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।”

সংক্ষেপে, মাত্র ২০০ কোটি টাকার কারণে হাজার কোটি টাকার শিল্প বিনিয়োগ নষ্ট হওয়া, বাংলাদেশের শিল্প খাতের জন্য বড় সঙ্কেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিটিএমএ-এর আহ্বান হলো, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে শিল্প পুনরায় সচল করা, যাতে কর্মসংস্থান বাঁচে, রপ্তানি বৃদ্ধি পায় এবং দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত