টিকা সংকট কাটাতে ৬০৪ কোটি টাকার বরাদ্দ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
টিকা সংকট কাটাতে ৬০৪ কোটি টাকার বরাদ্দ

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, হামসহ ছয়টি সংক্রামক রোগের টিকা আনার জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, “খুব শিগগিরই ৬০৪ কোটি টাকার বরাদ্দের মাধ্যমে হামসহ ছয়টি রোগের টিকা আনা হবে। আমরা ইতিমধ্যেই ইউনিসেফকে এই টাকা প্রদান করেছি। আশা করা হচ্ছে এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে টিকা দেশে পৌঁছাবে। জনগণ আতঙ্কিত না হয়ে, শিশুদের টিকাদানে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।”

সরকারের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হামের সংক্রমণ হঠাৎ বৃদ্ধি পেলেও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলা করছে। শিশুদের জন্য জরুরি আইসিইউ চালু করা হয়েছে, নতুন ভেন্টিলেটর সরবরাহ করা হয়েছে এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শিশুদের আলাদা ওয়ার্ড, আইসোলেশন সুবিধা এবং পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্ত্রী উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, মহাখালীতে একটি শিশুর মৃত্যুর পর বন্ধ থাকা আইসিইউ ইউনিট মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মানিকগঞ্জ ও রাজশাহীতে নতুন ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২০টি ভেন্টিলেটর সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গত এক দশকে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চললেও ২০১৮ সালের পর বড় কোনো হামের টিকা ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে যেসব শিশু টিকার আওতায় আসেনি বা পরে জন্ম নিয়েছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি।

মন্ত্রী আরও বলেন, “যেসব শিশু টিকা পাননি, তাদের মধ্যে হাম সংক্রমণের প্রকোপ বেশি। তাই দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। আমরা বিশেষ করে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, টিকা কার্যক্রমটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে শুরু হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুদের মধ্যে টিকার অভাবের কারণে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই সরকারের এই পদক্ষেপ কেবল সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক নয়, বরং শিশুর স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জনগণকে সচেতন থাকার পাশাপাশি আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আছি। সবাইকে শান্ত থাকা এবং শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে হবে।”

ইউনিসেফ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একত্রে কাজ করছে যাতে টিকাগুলো দ্রুত বিতরণ করা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা মিলিয়ে দেশে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে হামসহ ছয়টি রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করা যাবে।

টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয় দেশের সব স্বাস্থ্য কেন্দ্র, হাসপাতাল ও টিকাদান কেন্দ্র প্রস্তুত করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে টিকাদান কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে। সরকারের পক্ষ থেকে শিশুদের নিরাপদ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এই উদ্যোগকে স্বাস্থ্যখাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টিকাদান কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে এবং দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত