জামিন না পেয়ে কারাগারেই থাকছেন আইভী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার
জামিন না পেয়ে কারাগারেই থাকছেন আইভী

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ইন্টেরিয়রমিস্ত্রি সেলিম মন্ডল হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদের আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইভীর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলার কাশিমপুর মহিলা কারাগারে বন্দী আছেন। সেলিম মন্ডল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সামাদ। এই মামলাটি যুক্ত হওয়ার ফলে আইভীকে এখন পর্যন্ত মোট ১১টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত বৃহস্পতিবার সাবেক মেয়র আইভী পাঁচটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন। এছাড়া আরও পাঁচটি মামলায় জামিন পেলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা স্থগিত করা হয়। বর্তমানে ওই বিষয়টি আপিল বিভাগের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে আইভীর আইনি লড়াই এখনও চলমান রয়েছে এবং বিভিন্ন মামলার শুনানি নিয়ে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় ইন্টেরিয়রমিস্ত্রি সেলিম মন্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নিহতের ভাই ওয়াজেদ আলী একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাতজনকে এজাহারনামীয় আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ জনকে আসামি করা হয়।

আইভীর আইনজীবী আওলাদ হোসেন দাবি করেন, মামলার এজাহারে সেলিনা হায়াৎ আইভীর নাম ছিল না। ঘটনার প্রায় ১১ মাস পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যা তারা হয়রানিমূলক বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে আইভীর বিরুদ্ধে কী ধরনের তথ্য রয়েছে, তা আদালতে উপস্থাপনের জন্য অনুরোধ করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা করা হয়নি।

আইভীর পক্ষে আইনজীবী আরও দাবি করেন, একটি ঘটনার সময় একজন ব্যক্তিকে একাধিক মামলায় আসামি করা যৌক্তিক নয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আইভী একজন সুপরিচিত জনপ্রতিনিধি হওয়ায় তাকে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পর তাকে এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রশ্নের জন্ম দেয়। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

এর আগে গত ৯ মে ভোর সাড়ে ছয়টায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেলিনা হায়াৎ আইভীকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেন। পরে একই দিন সকালে তাকে গত বছরের ২০ জুলাই পোশাককর্মী মিনারুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহুমাত্রিক মামলার কারণে আইভীর আইনি পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। প্রতিটি মামলার পৃথক আইনি প্রক্রিয়া থাকায় বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। তবে আদালত প্রতিটি মামলার তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এই মামলাটি নিয়ে জনমনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে, অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনি অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও সামনে আসছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। আদালতই শেষ পর্যন্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেবেন। এ ধরনের আলোচিত মামলায় স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারা।

বর্তমানে সেলিনা হায়াৎ আইভী কাশিমপুর মহিলা কারাগারে রয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর শুনানি পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত