প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতি নজর দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যে, দেশের বাইরে ইসরায়েলের সঙ্গে লিপ্ত নীতি এবং যুদ্ধের কারণে দেশের মানুষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও অসন্তোষ তীব্র হচ্ছে। পেজেশকিয়ান এই মন্তব্য করেছেন এমন সময় যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরান এক মাস ধরে পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে রয়েছে।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ নামে একটি বিক্ষোভের ঘটনা সামনে এসেছে। ইরানি প্রেসিডেন্ট এই বিক্ষোভকে মার্কিন সমাজের গভীর অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশের নাগরিক দেশীয় নীতিনির্ধারণে বাইরের প্রভাব, বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রভাব নিয়ে হতাশ এবং ক্ষুব্ধ। এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নাগরিকরা মূলত ইসরায়েলের অগ্রাধিকার নীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বহিঃনীতি নিয়ে অসন্তুষ্ট।
ইরানি প্রেসিডেন্ট এআই বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানাকেন যে, তাঁর দেশীয় জনগণ ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে। তিনি বলেন, “মার্কিন নাগরিকরা ইসরায়েলের জন্য অগ্রাধিকার প্রদানের নীতি নিয়ে ক্লান্ত।” পেজেশকিয়ান আরও যুক্তি দেন যে, মার্কিন গণতন্ত্রের ওপর ‘ইসরায়েলি রাজাদের’ প্রভাব নিয়ে জনগণ বিরক্ত এবং তারা এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য সচেতন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তীব্র রূপ নিয়েছিল, যখন যৌথভাবে ইরান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর উত্তরে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে। এক মাসের এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই ইরানি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতকে আরও জটিল করেছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলার সময় পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর ও সৌদি আরব যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালিয়েছে। তবে ইরান আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থাহীনতার কথা প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পরিস্থিতি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিবেশকেও প্রভাবিত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ইরানি প্রেসিডেন্টের মনোযোগ আকর্ষণের মূল কারণ হল, বিদেশে যুদ্ধ চললেও দেশের জনগণের অসন্তোষ এবং বিক্ষোভ প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন যদি এই সামাজিক অসন্তোষকে উপেক্ষা করে, তবে দেশের ভিতর থেকেই রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক মনোযোগ পেয়েছে। এই বার্তা মার্কিন নেতৃত্বকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে সতর্ক থাকার সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ এখন দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বিদেশ নীতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানি প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চিত্রের দিকে বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করার প্রচেষ্টা। এতে তারা চাইছেন মার্কিন প্রশাসন বুঝুক, দেশের জনমতকে উপেক্ষা করলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বিবৃতি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, কূটনৈতিক ও তথ্য যুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনকে কেবল সামরিক প্রতিক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করতে হবে।
পরবর্তী সময়ে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সামাজিক আন্দোলনের এই মিশ্র পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সংস্থা, গণমাধ্যম ও কূটনীতিকদের বিশেষ নজর কাড়েছে। ইরানীয় প্রেসিডেন্টের বার্তা একটি প্রমাণ যে, আধুনিক যুদ্ধ কেবল সামরিক শক্তির মাধ্যমে নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মাধ্যমেও পরিচালিত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও ইরানের কূটনৈতিক কৌশলের জটিলতা আরও বৃদ্ধি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই কৌশল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিক সমাজের অসন্তোষের মাত্রা ও প্রভাব নিয়েও আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়বে।