স্বর্ণ-রুপার দাম বেড়ে সর্বশেষ মূল্য ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
দেশের স্বর্ণ রুপার নতুন দাম

প্রকাশঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ২২ ক্যারেটের মানসম্পন্ন স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায়। এই দাম মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এই সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে বসে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তা প্রকাশ করা হয়। নতুন সমন্বয় অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, চলতি ২০২৬ সালে দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৫০ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ২৯ দফা এবং কমানো হয়েছে ২১ দফা। গত বছরও ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল। এই পরিবর্তনগুলোর মাধ্যমে বাজারে স্বর্ণের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার প্রতি ভরি দাম ৩৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে নতুনভাবে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম এখন ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দামও মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ধাতব মূল্যের ওঠানামা, আন্তর্জাতিক ডলারের মানের পরিবর্তন এবং স্থানীয় চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বর্ণ ও রুপার বাজারে মূল্যের ওঠানামার প্রধান কারণ। বিশেষ করে স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া মহামারির পর দেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি স্বর্ণের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সোনার বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে সোনার ব্যবসায়ীদের উপরও পড়ছে। গয়না ক্রেতারা উচ্চ মূল্যের কারণে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় আরও সতর্ক হচ্ছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দীর্ঘমেয়াদে সোনার দাম স্থিতিশীল থাকলে বাজারে ক্রেতা পুনরায় আগ্রহী হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের জন্য সোনা এখনও এক নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। তবে ক্রেতাদের উচিত বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিনিয়োগ ও ক্রয়-ফিরত পরিকল্পনা নেওয়া। বাজুসের নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য তথ্য সহজলভ্য হচ্ছে।

এবারের সমন্বয়ের ফলে ক্রেতাদের মধ্যে স্বর্ণ ও রুপার বাজার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে সতর্কতা বজায় রাখবে। বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজুস নিয়মিত মূল্য নির্ধারণ করছে, যা বাজারের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত