বিপিসিএল প্লাস্টিক বর্জ্যে এআই ও আরবিইউ প্রয়োগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার
প্লাস্টিক বর্জ্য এআই আরবিইউ

প্রকাশঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ও রিসাইক্লিং বিজনেস ইউনিট (আরবিইউ) মডেলের ব্যবহার শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোকেমিকেল কোম্পানি লিমিটেড (বিপিসিএল)। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্লিজ প্রকল্পের আওতায় ফেনী, কক্সবাজার, রূপগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, বগুড়া, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় সাতটি রিসাইক্লিং বিজনেস ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৬১৭ মেট্রিক টনের বেশি প্লাস্টিক পুনরুদ্ধার এবং ৫ হাজার ৬১৫ জনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর গুলশানের রেনেসাঁ হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ডিকার্বনাইজিং বাংলাদেশ’স প্লাস্টিক ওয়েস্ট: ইনোভেটিভ সলিউশনস ফর দ্য সার্কুলার ইকোনমি’ শীর্ষক ওয়ার্কশপে এই প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন বিপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খাদেম মাহমুদ ইউসুফ। তিনি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম ও অর্জিত সাফল্য উপস্থাপন করেন এবং প্রকল্পে বিপিসিএলের উদ্ভাবনকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। এছাড়াও ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রকল্পের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয় এবং পরে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের মতামত ও সুপারিশ প্রদান করেন।

ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, প্লাস্টিকের বর্জ্য সমস্যার সমাধান কেবল নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে সম্ভব নয়। প্লাস্টিক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে। তিনি আরও জানান, সরকার বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করার জন্য বদ্ধপরিকর।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। বিশেষ করে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টে সরকারের কারিগরি সহায়তা এবং অংশগ্রহণ প্রকল্পের সফলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-এর প্রফেসর ড. মেলিতা মেহজাবিন প্রকল্পকে একটি সুগঠিত ফাইন্যানশিয়াল মডেলের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বিশেষভাবে প্রশংসা করেন যে, প্রতিষ্ঠানটি টেকসই ক্রেতা নিশ্চিত করে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে সাফল্য অর্জন করেছে।

জাতিসংঘ প্রকল্প সেবা কার্যালয় (ইউএনওপিএস), বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন বলেন, বিপিসিএলের উদ্ভাবন বিশ্বস্ততার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে এবং সারা দেশে এই ধরনের প্রকল্প ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। সুইডেন অ্যাম্বাসির ফার্স্ট সেক্রেটারি নায়োকা মার্টিনেজ ব্যাকস্টর্ম বলেন, ব্যক্তি পর্যায় থেকে যে সাপ্লাই চেইন তৈরি করেছে বিপিসিএল, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

জিআইজেড-এর হেড অব প্রজেক্ট মাইকেল ক্লোড প্রকল্পের প্রশংসা করে বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে পিইটি পরিবেশবান্ধব ডেলিভারির প্রয়োগ অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে কার্যকর।

বিপিসিএল জানায়, প্রকল্পের মাধ্যমে ভাঙারি সরবরাহকারীদের কেজিপ্রতি নিট মুনাফা ২ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ১ হাজার ৪০৪ জন অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহককে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, ৭০ জন শিশুকে শিশু যত্নকেন্দ্র এবং ১ হাজার ৪৭৫ জনকে জীবনদক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

এই প্রকল্প শুধুমাত্র প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সামাজিক দায়িত্ব, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং টেকসই উদ্ভাবনকে একত্রিত করে। বিপিসিএলের এ ধরনের উদ্যোগ দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত