পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ২ বার
সরকারি কর্মচারী পে স্কেল কর্মসূচি

প্রকাশঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের ৬৪ জেলায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক এক বিবৃতিতে জানান, আসন্ন কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হবে এবং এর লক্ষ্য সরকারের কাছে পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা প্রতিফলিত করা। তিনি জানান, ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন আংশিকভাবে হলেও প্রায় ২২ লাখ পরিবার তথা ২২ লাখ সরকারি কর্মচারীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

আবদুল মালেক বলেন, ২০১৫ সালে বর্তমান সরকারের প্রথম দফার মেয়াদে সরকারি কর্মচারীরা ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। ওই সময়ে তিনটি টাইম স্কেল ও একটি সিলেকশন গ্রেড বাতিল করা হয়, ফলে পদোন্নতি এবং বেতন বৃদ্ধিতে অসংখ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত হন। এরপর দুইটি নতুন গ্রেড চালু হলেও তা ছিল কার্যত প্রতিশ্রুতিভ্রষ্ট ও তাত্ত্বিক। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কোন সরকারই পে স্কেল বাস্তবায়ন করেনি। দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে বেতন সমন্বয় করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্মচারীদের দাবির প্রেক্ষিতে নবম জাতীয় পে কমিশন গঠন করে সুপারিশ প্রণয়ন করেছিল। তবে সেই সুপারিশ আজও বাস্তবায়িত হয়নি। আবদুল মালেক দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইলে প্রজ্ঞাপন জারি করে পে স্কেল কার্যকর করতে পারতো। নির্বাচিত সরকারকে এ বিষয়ে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তা কার্যকর করার কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তিনি তোল দিয়ে বলেন, বর্তমান বাজারে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীরা জীবনযাপনে কঠিন সমস্যার মুখোমুখি, যা কোনো সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পায়নি।

সমিতির আহ্বায়ক জানান, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে দেশের ৬৪ জেলায় কর্মসূচি শুরু হবে। তিনি দেশের সকল সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, পে স্কেল বাস্তবায়ন শুধু কর্মচারীর ন্যায্য দাবি নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আবদুল মালেক বলেছেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৯ম পে স্কেলের বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি তা আংশিকভাবে হলেও বাস্তবায়নের দাবি সকল কর্মচারীর। তিনি উল্লেখ করেছেন, গণ কর্মচারীদের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে কতটা সৎ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এছাড়া তিনি সতর্ক করেছেন, কর্মচারীরা যদি দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকেন, তাহলে তা দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে সরকার অন্তত এবার এই কর্মসূচি ও দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং পে স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অধিকার নিশ্চিত করবে।

দেশের সরকারি কর্মচারীদের এই দীর্ঘদিনের দাবি এবং তাদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য সংগঠিত কর্মসূচি সামাজিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন ও পদোন্নতির স্বচ্ছ ও ন্যায্য ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে আসছেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা তাদের দাবিকে শক্তভাবে উপস্থাপন করতে চাইছেন।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি মনে করে, পে স্কেল বাস্তবায়ন কেবল অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয় নয়, এটি কর্মচারীদের জীবনমান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি সেবা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত জরুরি। কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে সহায়ক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত