নতুন পে স্কেল জন্য নিজস্ব কমিশন জরুরি: ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ১ বার
অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

প্রকাশঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নতুন পে স্কেল নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বর্তমান সরকারের নিজস্ব কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি মনে করেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত পে কমিশনের রিপোর্ট সরাসরি গ্রহণ করা সঠিক হবে না এবং বর্তমান সরকারকে এটি কেবল参考 হিসাবে বিবেচনা করে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) কার্যালয়ে ‘বাজেট ঘিরে নাগরিক ভাবনা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক্-বাজেট মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ড. দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, “বিগত সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে পে স্কেল সংক্রান্ত যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি এক ধরনের প্রলম্বিত দায় তৈরি করেছে, যা নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াচ্ছে।”

ড. দেবপ্রিয় ব্যাখ্যা করেন, নতুন সরকার যদি নিজস্বভাবে কমিশন গঠন করে পে স্কেলের প্রস্তাবগুলো বিশ্লেষণ করে, তবে তা দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কার্যকরী হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আগের সরকারের কমিশন রিপোর্টকে একটি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, কিন্তু সরাসরি তা অনুমোদন করলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হবে। নতুন কমিশনের মাধ্যমে সরকারের নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বাস্তবতা বজায় থাকবে।

রাজস্ব আদায়ের প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে পারলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি সম্ভব। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাজনৈতিক ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে সে সময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তবে নির্বাচিত সরকারের জন্য প্রথম বছরই গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত, কারণ এটি অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়ন ও রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে দিকনির্দেশক হবে।

ড. দেবপ্রিয় চুরি হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, “দেশের ভেতরে ও বাইরে যেসব সম্পদ জব্দ করা হয়েছে, সেগুলো দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি করে দেশের অর্থনৈতিক চক্রে ফিরিয়ে আনতে হবে। এটি শুধু রাজস্ব বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে না, বরং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

অর্থনীতিবিদ হিসেবে তিনি বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীদের পে স্কেল এবং বাজেট সংক্রান্ত নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং কার্যকারিতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “পে স্কেল শুধু সরকারি কর্মচারীদের জন্য নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সুতরাং নতুন কমিশনের মাধ্যমে পে স্কেল বাস্তবায়ন দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, সমন্বিত এবং স্বচ্ছ করতে সাহায্য করবে।”

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার নিজের নিজস্ব পে কমিশন গঠন করে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেবে। এর ফলে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি পূরণ হবে, বেতন ও সুযোগ-সুবিধার সমতা বজায় থাকবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের মানোন্নয়ন নিশ্চিত হবে। এছাড়া, তিনি সতর্ক করেছেন, পে স্কেল সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিলম্ব কর্মচারীদের মনোবল হ্রাস করতে পারে এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান সময়ে সরকারি কর্মচারী ও দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সুস্থতার জন্য পে স্কেল বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল বেতন ও সুবিধার বিষয় নয়, বরং কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, কমিশন গঠনের মাধ্যমে সরকারের নীতি-নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও যুক্তি নির্ভরতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা দেশের উন্নয়নকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত