প্রকাশঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সুস্থভাবে দীর্ঘায়ু পেতে মাল্টিভিটামিন নিয়মিত সেবন করা অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস। সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে, যা বয়স্কদের জন্য নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত প্রতিদিন একটি মাল্টিভিটামিন গ্রহণ করলে বয়সের সঙ্গে শরীরে ঘটে যাওয়া বার্ধক্যের জৈবিক প্রক্রিয়া বা ‘বায়োলজিক্যাল এজিং’ কিছুটা ধীর হতে পারে।
এই গবেষণা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার মেডিসিন’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা ৭০ বছরের বেশি বয়সি ৯৫৮ জন সুস্থ ব্যক্তির ওপর টানা দুই বছর ধরে এই পরীক্ষা পরিচালনা করেছেন। আধুনিক ‘এপিজেনেটিক ক্লক’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা পাঁচটি আলাদা প্যারামিটারে শরীরের বয়স পরিমাপ করেছেন। এর মধ্যে দুটি প্যারামিটারে মাল্টিভিটামিন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। দুই বছরের ফলাফল অনুযায়ী, মাল্টিভিটামিন সেবনকারীদের শরীরের বার্ধক্য স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় চার মাস ধীর হয়েছে।
গবেষণার সহ-লেখক জানিয়েছেন, মূল লক্ষ্য কেবল মানুষের আয়ু বৃদ্ধি নয়, বরং বার্ধক্যকালীন জীবনের মান উন্নয়ন করা। শরীর যাতে ভেতর থেকে সুস্থ থাকে এবং বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতাগুলো দেরিতে আসে, সেটিই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য। বার্ধক্য বিষয়ক অগ্রগণ্য বিশেষজ্ঞ স্টিভ হরভার্থ এই ফলাফলকে ‘অত্যন্ত আকর্ষণীয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, মাল্টিভিটামিন বা অন্যান্য সাপ্লিমেন্ট আসলে বার্ধক্য প্রক্রিয়া কমাতে পারে কি না—জনসাধারণের এই কৌতূহলের পক্ষে এটি এখন পর্যন্ত অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ।
গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাদের মতে, গবেষণাগারে পাওয়া ফলাফল সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর কতটা কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তবুও মাল্টিভিটামিনের ইতিবাচক প্রভাবকে তারা সহজে উপেক্ষা করছেন না। বরং ধারাবাহিক সফলতা ভবিষ্যতে সুস্থভাবে বার্ধক্য কমানোর নতুন পথ দেখাতে পারে।
একজন বয়সী ব্যক্তি দৈনন্দিন মাল্টিভিটামিন সেবনের মাধ্যমে কেবল শারীরিক শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করছেন না, বরং বার্ধক্যের প্রক্রিয়াটিও ধীর করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে যে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়, তা কমাতে খাদ্য ও সাপ্লিমেন্টের সঠিক ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন, সুস্থ বার্ধক্যের জন্য মাল্টিভিটামিন ছাড়া অন্যান্য জীবনধারার দিকও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখাও বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। মাল্টিভিটামিন এই সব স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের সঙ্গে সমন্বিতভাবে গ্রহণ করলে বয়সজনিত সমস্যার প্রভাব আরও কমানো সম্ভব।
বিশ্বজুড়ে বয়স্কদের মধ্যে বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও অসুস্থতার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় এই গবেষণার ফলাফল বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবনের জন্য মস্তিষ্ক ও শরীরের কোষগুলোকে ঠিক রাখতে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে এই ধরনের সাপ্লিমেন্ট কার্যকর হতে পারে। তবে গবেষকরা বার্তা দিয়েছেন, প্রতিটি মানুষের শারীরিক অবস্থা ভিন্ন, তাই মাল্টিভিটামিনের সেবন শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মাল্টিভিটামিনের এই নতুন তথ্য বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে সাহায্য করছে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরের গবেষণা চালালে বার্ধক্য নিয়ন্ত্রণে মাল্টিভিটামিনের কার্যকারিতা সম্পূর্ণভাবে বোঝা সম্ভব হবে। এই গবেষণার মাধ্যমে সুস্থভাবে বার্ধক্যকালীন জীবন যাপনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খোলা হয়েছে।