বিশ্বকাপের আগে ছন্দে ফিরল ব্রাজিল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৫ বার
ব্রাজিলের দাপুটে জয় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে

প্রকাশঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতির শেষ ধাপে শক্তির দাপট দেখিয়ে আত্মবিশ্বাসী এক জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। ফ্লোরিডার ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ইউরোপের শক্তিশালী দল ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে সেলেসাওরা। নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি-এর অধীনে এই জয় শুধু একটি ফলাফল নয়, বরং বিশ্বকাপের আগে দলের প্রস্তুতি ও মানসিক দৃঢ়তার এক বড় বার্তা।

ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিল ছিল নিজেদের স্বভাবসুলভ ছন্দে। বলের দখল, দ্রুত পাসিং এবং আক্রমণভাগের তীক্ষ্ণতা দিয়ে তারা ক্রোয়েশিয়াকে ক্রমাগত চাপে রাখে। মিডফিল্ড থেকে আক্রমণে দ্রুত রূপান্তর এবং উইং ব্যবহার করে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখলেও গোলের দেখা পেতে কিছুটা সময় লেগে যায়।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। ইনজুরি টাইমে দ্রুত এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আক্রমণ সাজান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার গতিময় দৌড় এবং নিখুঁত পাস থেকে বল পান দানিলো সান্তোস, যিনি ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দেন। গোলটি শুধু দলকে এগিয়ে নেয়নি, বরং ম্যাচের গতি পুরোপুরি ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণে এনে দেয়। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে কিছুটা পরিবর্তন আসে। ক্রোয়েশিয়া ধীরে ধীরে নিজেদের সংগঠিত করে এবং পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করতে শুরু করে। তাদের মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং পাসিংয়ের নিখুঁততা ব্রাজিলকে কিছুটা চাপে ফেলে। ফলে ম্যাচে এক ধরনের ভারসাম্য ফিরে আসে, যা দর্শকদের জন্য বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করে।

ম্যাচের ৮৪ মিনিটে সেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে লোভরো মাজের দারুণ এক গোল করে সমতায় ফেরান দলকে। এই গোলটি ম্যাচে নতুন মাত্রা যোগ করে এবং শেষ কয়েক মিনিটে ম্যাচের ফলাফল অনিশ্চিত হয়ে ওঠে।

তবে ব্রাজিল খুব দ্রুতই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আবার প্রমাণ করে। সমতার পরপরই আক্রমণে গিয়ে পেনাল্টি আদায় করে তারা। বদলি হিসেবে নামা ইগর থিয়াগো সেই পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে আবার এগিয়ে দেন। তার এই গোলটি শুধু স্কোরলাইনই বদলায়নি, বরং দলের মনোবলও উঁচুতে নিয়ে যায়।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ব্রাজিল আরও একটি চমৎকার আক্রমণ গড়ে তোলে। এবার আক্রমণের সূচনা করেন ইগর থিয়াগো নিজেই। তার পাস থেকে বল পেয়ে তরুণ প্রতিভা এনড্রিক অসাধারণ একটি মুভ তৈরি করেন এবং সুযোগ করে দেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি-কে। আর্সেনাল ফরোয়ার্ড সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন, যা ম্যাচের শেষ পেরেক হয়ে দাঁড়ায়। ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

এই ম্যাচে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ছিল দলগত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। আক্রমণভাগে গতি, মিডফিল্ডে নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগে শৃঙ্খলা—সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ দল হিসেবেই নিজেদের উপস্থাপন করেছে তারা। বিশেষ করে নতুন কোচ আনচেলত্তির অধীনে দলের কৌশলগত পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল।

ক্রোয়েশিয়াও অবশ্য সহজে হার মানেনি। তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করেছে এবং এক পর্যায়ে সফলও হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের ধারাবাহিক আক্রমণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতার সামনে তারা টিকতে পারেনি।

এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে নিল ব্রাজিল। সামনে তাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ সূচি রয়েছে। আগামী ১১ মে ফিফার কাছে ৫৫ জনের প্রাথমিক স্কোয়াড জমা দেবে দলটি, যা থেকে পরবর্তীতে চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হবে। এরপর ৩১ মে মারাকানা স্টেডিয়ামে পানামার বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচ খেলবে তারা, যা বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে সমর্থকদের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা হওয়ার সুযোগ এনে দেবে।

বিশ্বকাপ অভিযানে নামার আগে এই ধরনের জয় যে কোনো দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এটি খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, দলের মধ্যে বোঝাপড়া উন্নত করে এবং কোচকে চূড়ান্ত পরিকল্পনা সাজাতে সহায়তা করে। ব্রাজিলের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। এই ম্যাচটি তাদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হবে, যেখানে তারা যাচাই করতে পারবে প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স কতটা কার্যকর হয়েছে। তবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এই জয় দেখিয়ে দিয়েছে, সেলেসাওরা আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে প্রস্তুত।

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ব্রাজিল সবসময়ই এক আবেগের নাম। তাদের খেলার স্টাইল, সৃজনশীলতা এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয় জয় করেছে। এই ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মাঠে নেমে তারা যে দাপট দেখিয়েছে, তা বিশ্বকাপের আগে প্রতিপক্ষদের জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তাই বলা যায়।

সব মিলিয়ে, ফ্লোরিডার এই রাতটি ব্রাজিলের জন্য ছিল আত্মবিশ্বাস অর্জনের, নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের এবং নতুন স্বপ্ন দেখার এক উপলক্ষ। এখন পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে, এই ছন্দ তারা বিশ্বকাপের আসরে কতটা ধরে রাখতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত