প্রকাশঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল—উত্তর আমেরিকার মঞ্চে অনুষ্ঠিতব্য এই আসরের জন্য ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাই পর্বের প্লে-অফ রাউন্ড গত রাতে শেষ হয়েছে। ইতালির মতো প্রচলিত শক্তিধর দল বাইরে পড়ে যাওয়ায় এই পর্ব ফুটবল বিশ্ববাসীর কাছে এক অঘটনের রূপ নিয়েছে। ইতালি বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ হারিয়েছে। বসনিয়ার পাশাপাশি তুরস্কও এই রাউন্ড পেরিয়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে জায়গা নিশ্চিত করেছে।
ইউরোপিয়ান অঞ্চলের প্লে-অফের আরেকটি নজরকাড়া ম্যাচে জয়ী হয়েছে সুইডেন ও চেক প্রজাতন্ত্র। সুইডেন তাদের ম্যাচে ৩-২ গোলে হারিয়েছে পোল্যান্ডকে। সুইডেনের হয়ে গোল করেছেন অ্যান্থনি এলাঙ্গা, গুস্তাফ লেজারবিয়েল্কে ও ভিক্তর ইয়োকেরেস। পোল্যান্ডের পক্ষে নিকোলা জালেভস্কি ও কারোল সুইদেরস্কি গোল করেন। এই জয়ের ফলে সুইডেন ২০১৮ সালের পর ফের বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে। তবে পোল্যান্ডের জন্য এটি হতাশাজনক; তারা এবার বিশ্বকাপের মাঠে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। বিশেষ করে বার্সেলোনার তারকা স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানদোভস্কির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ হিসাবেও এটিকে দেখা হচ্ছে।
সুইডেনের এই জয়ে ফুটবলপ্রেমীরা ১৯৫৮ সালের সেই স্মরণীয় সময়ের কথা মনে করতে বাধ্য হচ্ছেন, যখন সুইডেন ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে তাদের এই পুনরাগমনকে উদযাপন করার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, গোলের মুহূর্ত এবং কৌশলগত খেলার মান বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
চেক প্রজাতন্ত্রও ইতিহাস গড়েছে। প্রাগের এপেট অ্যারেনায় ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে চেক। ম্যাচের প্রথম ৯০ মিনিটে দুই দলের মধ্যে গোলের সমতা ছিল ২-২। অতিরিক্ত সময়ে চেকরা ১০০ মিনিটে ফের এগিয়ে যায় এবং ১১১ মিনিটে ডেনিশরা সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে চেক প্রজাতন্ত্র ৩-১ ব্যবধানে জয় অর্জন করে। টাইব্রেকারে চেকরা চারজন খেলোয়াড়কে শট নিতে দেন, যার মধ্যে তিনটি লক্ষ্যভেদে আসে। ডেনমার্কের চারজন খেলোয়াড়ের মধ্যে মাত্র একজন সফল হন।
এই জয়ের ফলে চেক প্রজাতন্ত্র ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল। দীর্ঘ ২০ বছর পর তাদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। দুইবারের রানার্সআপ হিসেবে চেকদের এই পুনরাগমন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিশেষ উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা, মাঠের কৌশল এবং টাইব্রেকারে দারুণ দক্ষতা তাদের বিজয় নিশ্চিত করেছে।
ম্যাচের বিবরণে দেখা গেছে যে, ডেনমার্ক আধিপত্য বিস্তার করলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। ম্যাচে তাদের ৬৬ শতাংশ বল পজেশন এবং ২১টি শট নেওয়া সত্ত্বেও লক্ষ্যভেদে মাত্র একটি সফল হয়। চেক প্রজাতন্ত্র তাদের ৭টি শটের মধ্যে ৪টি লক্ষ্যভেদে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ম্যাচের গোলে পাভেল সাল্ক, লাদিস্ল্যাভ ক্রেজসি এবং টাইব্রেকারে গোল করা খেলোয়াড়রা দলের বিজয় নিশ্চিত করেছেন।
ফুটবলবিশ্বে এই চেক ও সুইডেনের জয়কে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ইতালির মতো প্রচলিত শক্তিধর দলের বাদ পড়া, পোল্যান্ডের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ হারানো এবং দীর্ঘদিন পর চেক প্রজাতন্ত্রের পুনরাগমন—সব মিলিয়ে ইউরোপিয়ান প্লে-অফ রাউন্ডকে ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আসরে বিশ্বকাপের মান বৃদ্ধি পেয়েছে। খেলোয়াড়রা তাদের দক্ষতা, মানসিক শক্তি এবং টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। বিশেষ করে টাইব্রেকারের মতো উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে মনে থাকবে।
বিশ্বকাপের মূলপর্বের বাকি প্রতিযোগিতার দিকে নজর দিলে দেখা যাচ্ছে, উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবার সুইডেন, চেক প্রজাতন্ত্র, বসনিয়া ও তুরস্কের মতো দল নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে খেলোয়াড়দের সামনে উপস্থিত হবে। তাদের কৌশল, দলগত সমন্বয় এবং খেলার মান প্রতিযোগিতাকে আরও রঙিন ও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে।
এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল কেবল খেলোয়াড়দের জন্য নয়, দর্শকদের জন্যও একটি উৎসব হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় পর সুইডেন এবং চেক প্রজাতন্ত্রের অংশগ্রহণ, তারকা খেলোয়াড়দের দারুণ পারফরম্যান্স এবং মাঠের নাটকীয় মুহূর্ত—সব মিলিয়ে এটি একটি স্মরণীয় আসর হিসেবে ফুটবল ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।