প্রকাশঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশে এপ্রিল মাসের জন্য এলপিজি ও অটোগ্যাসের নতুন দাম সমন্বয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কমিশন এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, কারওয়ান বাজারে তাদের কার্যালয়ে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন দাম প্রকাশ করা হবে। এই ঘোষণার সঙ্গে সাধারণ মানুষ এবং শিল্পখাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে যুক্ত, কারণ গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি বা হ্রাস সরাসরি ভোক্তা ও শিল্প খাতে প্রভাব ফেলে।
বিইআরসি জানিয়েছে, এ মূল্য সমন্বয় আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কাঁচামালের দাম অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূলত সৌদি আরামকো কর্তৃক ঘোষিত কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) এই মূল্য নির্ধারণের প্রধান ভিত্তি হবে। এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি খাতের জন্য নির্ধারণ করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের ওঠানামার সঙ্গে দেশের বাজারও প্রভাবিত হয়।
গত ২ মার্চ বাংলাদেশে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রেখে ১ হাজার ৩৪১ টাকা রাখা হয়েছিল। সেই সঙ্গে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ৩ পয়সা কমিয়ে ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখনও ভোক্তাদের মধ্যে দাম বৃদ্ধির বা হ্রাসের বিষয়ে সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছিল। এবার এপ্রিল মাসে দাম সমন্বয় হবে কিনা এবং কতটুকু পরিবর্তন হবে তা আগামীকালের সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত হবে।
দেশের ভোক্তা এবং গ্যাস ব্যবহারকারীদের জন্য এই ঘোষণার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। এলপিজি ব্যবহার করা হয় গৃহস্থালিতে রান্না ও গরম পানি প্রস্তুত করার জন্য। তাছাড়া ছোট, মাঝারি এবং বড় শিল্পখাতের উৎপাদন প্রক্রিয়ার জন্যও অটোগ্যাস অপরিহার্য। ফলে দাম বাড়লে পণ্য ও সেবার খরচে প্রভাব পড়তে পারে, আর দাম কমলে ভোক্তারা স্বল্পমূল্যে জ্বালানি উপভোগ করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের ওঠানামা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার চাপ দেশের বাজারে দাম প্রভাবিত করে। এছাড়া শীত ও গরমের মৌসুমের ব্যবহারও দাম সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশা করছেন যে, এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম স্থিতিশীল থাকবে বা সামান্য কমতে পারে।
বিইআরসি প্রতি মাসের শুরুতে এই মূল্য সমন্বয় নির্ধারণ করে থাকে, যা দেশের জ্বালানি বাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম নির্ধারণ করা হয়, যাতে ভোক্তারা অতিরিক্ত মূল্য বোঝা না বহন করেন এবং বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যয় হিসাব অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য করতে পারেন।
শিল্প খাত, গৃহস্থালী ব্যবহার এবং পরিবহন খাতে এলপিজি ও অটোগ্যাসের ভুমিকা অপরিসীম। শিল্প উদ্যোক্তারা সাধারণত তাদের উৎপাদন খরচ হিসাব করার সময় গ্যাসের খরচকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেন। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হলে উৎপাদনের খরচ বাড়ে, যা সরাসরি পণ্যের বাজারমূল্যে প্রভাব ফেলে। সেই দিক থেকে আগামীকালের ঘোষণা দেশের শিল্প ও ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের ভোক্তারা প্রতিমাসের দাম সমন্বয় নিয়ে সচেতন থাকেন, কারণ রান্না ও দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য এলপিজি সিলিন্ডার অপরিহার্য। বিশেষ করে গৃহিণীরা ঘরের রান্নার জন্য এলপিজি ব্যবহার করেন। তাই দাম বাড়লে প্রতিমাসের সংসারের বাজেটে তার প্রভাব পড়ে। এজন্য ভোক্তাদের পক্ষ থেকেও আগামীকালের সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে অপেক্ষিত।
সার্বিকভাবে, আগামীকাল বাংলাদেশে এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম সমন্বয় সংক্রান্ত ঘোষণার ফলে দেশের ভোক্তা, শিল্পখাত এবং ব্যবসায়ীরা তাদের পরিকল্পনা ও ক্রয়-ব্যয় সমন্বয় করতে পারবেন। এই ঘোষণার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এবং দেশীয় চাহিদা-মূল্যের সামঞ্জস্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা যুক্ত রয়েছে।