নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে দেশজুড়ে ছয় দিনের কর্মসূচি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২ বার
পে স্কেল

প্রকাশঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জীবিকা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি তোলার জন্য আগামী ৫ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ছয় দিনের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সমিতির আহবায়ক আবদুল মালেক এবং সদস্যসচিব আশিকুল ইসলাম এই কর্মসূচি সম্পর্কে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তারা জানান, ২০১৫ সালে ৮ম পে স্কেল বাস্তবায়নের পর থেকে নতুন কোনো পে স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। সেই সময় থেকে চলমান নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা খাতের ব্যয়, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের খরচে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তাই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন একটি জরুরি প্রয়োজন হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সমিতির নেতারা উল্লেখ করেছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে যথাযথ বরাদ্দ রেখে দ্রুত নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দাবির অংশ হিসেবে কর্মসূচিতে ৫ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি জেলা শহরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এরপর ১০ এপ্রিল উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় শহরে শান্তিপূর্ণ আলোচনাসভা এবং প্রতিনিধি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সরকারি কর্মকর্তারা সরাসরি তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরবেন এবং নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবিও জানাবেন।

সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্রুত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুসারে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। এছাড়া গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও চাওয়া হয়েছে। সমিতি এ পে স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত ১০টি দাবি উপস্থাপন করেছে। এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে নবম পে স্কেল কার্যকর করা, সার্ভিস বেনিফিটসহ টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল করা, ব্লক পোস্ট সমস্যার সমাধান করা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিবারের স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, দক্ষতা ও মানসিক কল্যাণ উন্নয়ন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অযাচিত পোস্টিং ও পদোন্নতির বাধা দূর করা। এছাড়া সমন্বিত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, দৈনন্দিন জীবন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন প্রগ্রামের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্থানান্তর ও পোস্টিং নীতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও দাবির মধ্যে রয়েছে।

গত বছরের জুলাই মাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ২১ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়েছিল। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে এখনও সেই প্রতিবেদন এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের অভাব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক বলেন, ‘‘বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নবম পে স্কেল কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, কিন্তু বেতন কাঠামো আগের মতোই। যদি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তাহলে কর্মকর্তারা আর্থিক দিক থেকে যথাযথভাবে সুরক্ষিত থাকবেন না।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা সরকারের কাছে আমাদের অবস্থান ও দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরব এবং আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রাপ্য ব্যবস্থা নেবেন।’’

সারাদেশে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তারা সরাসরি সরকারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় দাবিগুলো তুলে ধরবে। সমিতির নেতারা আশাবাদী, এই কর্মসূচি নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ করবে এবং দেশের সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

এই ছয় দিনের কর্মসূচি শুধুমাত্র স্মারকলিপি প্রদান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়, বরং এতে আলোচনা সভা ও প্রতিনিধি সমাবেশের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা এবং চাহিদা সরাসরি সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। কর্মসূচি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সংগঠনটি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রাখবে।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, ন্যায্য বেতন কাঠামোর মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং কর্মপরিবেশে উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে। সমিতির এই কর্মসূচি দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত