প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম শুক্রবার রাজধানীতে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামীও আওয়ামী লীগের অনুসৃত পথেই এগোচ্ছে। তিনি বলেন, দেশকে আধিপত্যবাদের চাপে ফেলার চেষ্টা করেছে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে, এবং আওয়ামী লীগ যে পথে চলেছে, জামায়াতও সেই পথ অনুসরণ করছে। তবে তারেক রহমানের কারণে তারা সম্পূর্ণ সফল হয়নি। সালাম আরও উল্লেখ করেন, রাজনীতি দিয়ে আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করা হয়েছে, তেমনি জামায়াতকেও মোকাবিলা করা হবে।
আব্দুস সালাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই বিএনপির জন্ম, এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার বুকের রক্ত দিয়ে সেই স্বপ্নকে রক্ষা করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া তার জীবনের বেশিরভাগ সময় উৎসর্গ করেছেন এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। তিনি মৃত্যুর মুখেও আপস করেননি, এবং তারেক রহমানও সেই একই লক্ষ্য নিয়ে অবিরাম প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। দেশের জনগণ তার পাশে রয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় গঠন করে। তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং জনগণের উষ্ণ বরণ প্রমাণ করে দেশের মানুষ তার প্রতি কতটা আস্থা ও ভালোবাসা রাখে। তিনি মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে তারেক রহমানকে ছোট করার জন্য, এবং জামায়াতও একই চেষ্টা করেছে। এ দুটি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি টিকে রয়েছে। তিনি জানান, সংসদ ও সরকার এ বিষয়ে অসহযোগীতা করছে এবং দেশের অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
আব্দুস সালাম বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ধ্বংসপ্রায়, এবং সংসদে জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময় তাদের ভূমিকা তা স্পষ্ট করেছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, দুটি দল পাকিস্তানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। একজন শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, আর জামায়াত পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, ‘টাকা কোনো ব্যাপার না, শুধু দুর্নীতিটা বন্ধ করতে হবে’, এবং তারেক রহমানও সেই একই পথে চলছেন। তিনি নতুন সরকারের কার্যক্রমের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং খেলোয়াড়দের সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ।
আব্দুস সালামের বক্তব্যে দেশীয় রাজনীতির ইতিহাস এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সংযোগ উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যম নয়, বরং জনগণের আশা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ উপায়। মুক্তিযুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য—স্বাধীনতা ও সমৃদ্ধি—অবিরাম প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো জনগণের স্বার্থ ও দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তাই বিএনপি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে, জনগণের পাশে থেকে এই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
সংক্ষিপ্তভাবে, আবদুস সালামের মন্তব্য তুলে ধরেছে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পথের মিল, এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির ভূমিকা, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি এবং নতুন সরকারের কর্মসূচির গুরুত্ব। তার বক্তব্য পাঠককে রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত এবং দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জ বোঝার একটি বিস্তৃত ধারণা প্রদান করছে।