নিত্যপণ্যের দাম বিপর্যয়, স্বস্তি নেই ক্রেতাদের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
নিত্যপণ্যের বাজারে দাম

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদের আনন্দ শেষ হয়ে গেলেও রাজধানীর বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে এখনো রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। মাছ-মাংস থেকে শুরু করে সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য ক্রেতাদের জন্য ভারি চাপ সৃষ্টি করছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ও রায়েরবাজার এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পণ্যের দাম উচ্চ স্তরে অবস্থান করছে, যা ক্রেতাদের দৈনন্দিন জীবন কঠিন করে তুলেছে।

মাছের বাজারে ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। পাঙ্গাশের দাম শুরু হয়েছে ২০০ টাকা থেকে, তেলাপিয়া ২৩৫ টাকা, রুই ২৪০ থেকে ৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মৃগেল ২৫০–৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০–৯০০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং কই-শিং জাতের মাছ ৪০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এমন দাম ক্রেতাদের জন্য বিশেষভাবে চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাংসের বাজারেও অবস্থা অনিশ্চিত। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ব্রয়লার মুরগির দাম দাঁড়িয়েছে ১৯৫ টাকায়। যদিও ব্রয়লার মুরগির দাম সামান্য কমেছে, তবুও অনেকের মতে এটি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সোনালি জাতের মুরগি কিনতে হলে কেজিপ্রতি খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ৩৪০ টাকা, যা বিলাসবহুল পণ্যের মতো হয়ে গেছে।

সবজি বাজারেও স্বস্তি নেই। ঈদের পরেও দাম বেড়েছে। ঢ্যাঁড়শ ১২০ টাকা, পটোল ১০০ টাকা, মরিচ ১০০–১২০ টাকা, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা ১০০–১২০ টাকা, উচ্ছে ও বরবটি ১০০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ৫০–৬০ টাকা, টমেটো ৭০–৮০ টাকা, করলা ১৬০ টাকা, লাউ ৮০ টাকা, গোল বেগুন ১৬০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিম ৫০–৭০ টাকা, ছোট মিষ্টি কুমড়া ৬০–৭০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা এবং গাজর ৫০–৬০ টাকা প্রতি কেজি।

ক্রেতারা জানান, ঈদের সময়ে দাম বেড়ে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে কমবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দাম এখনও উচ্চ পর্যায়ে থাকায় স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না। এক ক্রেতা বলেন, “ব্রয়লার মুরগির দাম সামান্য কমলেও সোনালি মুরগি এখন বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে। আমাদের জন্য ক্রয় করা কঠিন হয়ে গেছে।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহণ খরচ, সরবরাহের ঘাটতি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্য ফেরাতে হলে নীতি প্রণয়ন ও বাজার তদারকির কাজ আরও শক্তভাবে করতে হবে।

বাজার পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হবে। এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতারা বিকল্প বাজার ও পাইকারি মূল্য খোঁজার চেষ্টা করছেন। তবে সব ধরনের পণ্যের দামই এখনও উচ্চ অবস্থানে থাকায় স্বাভাবিক বাজার চাহিদা মেলানো যাচ্ছে না।

রাজধানীর বাজারে ক্রেতাদের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় মানসিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা প্রভাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো প্রতিদিনের খাদ্য ও প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তা মেটাতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির সমাধান স্বল্পমেয়াদে সম্ভব নয়। সরকারী নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত