প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মঞ্চে শোরগোল সৃষ্টি করেছে। তিনি ঘোষণা করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলীয় সামরিক অভিযান খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে, তবে তার আগে আক্রমণ আরও তীব্র হবে। ট্রাম্প এমনকি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই তীব্র আঘাত ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। হোয়াইট হাউস থেকে ১৯ মিনিটের ভাষণে তিনি এটিকে ‘চূড়ান্ত ও অপ্রতিরোধ্য বিজয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানে আমাদের কাজ শেষ করার খুব কাছে পৌঁছে গেছি। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত করব। এ ধরনের আঘাত তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেবে, এবং এটি তাদের প্রকৃত অবস্থান।” তিনি আরো বলেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থার পাশাপাশি অস্ত্র কারখানা ও রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতিহাসে কোনো শত্রু এত কম সময়ে এত বড় ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি।
ট্রাম্প পারমাণবিক বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, সম্প্রতি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা উপকরণ এখন আর চিন্তার বিষয় নয়। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন, সেই চুক্তি চললে ইসরায়েলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ত। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান ‘নজিরবিহীন গতিতে পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে এগিয়ে চলছিল’। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই দাবিতে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া ট্রাম্প শাসন পরিবর্তন বিষয়েও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কখনো শাসন পরিবর্তন করা ছিল না। তবে শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু শাসন পরিবর্তনের ফলাফল হয়েছে।” হরমুজ প্রণালি নিয়েও ট্রাম্প সতর্কবার্তা দিয়েছেন। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করে। তিনি বলেছেন, এটি ‘স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে’ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। মার্কিন সহায়তা থাকবে, তবে নেতৃত্ব স্থানীয় দেশগুলোর হাতে থাকবে।
ট্রাম্পের ভাষণের সময় তেলের বাজারে দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভাষণ শুরুর সময় দাম কমলেও শেষ হওয়ার সময় ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্প যুদ্ধের সময়কালকে অতীতের যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলেছিল ১ বছর ৭ মাস ৫ দিন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ৩ বছর ৮ মাস ২৫ দিন, কোরিয়া যুদ্ধ ৩ বছর ১ মাস ২ দিন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর ৫ মাস ২৯ দিন এবং ইরাক যুদ্ধ ৮ বছর ৮ মাস ২৮ দিন। তার সামরিক অভিযান মাত্র ৩২ দিনে কার্যত বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশকে হুমকিমুক্ত করেছে, যা তিনি ‘ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এই ভাষণ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মন্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা করতে পারে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তেলের বাজারের স্থিতিশীলতা প্রভাবিত হতে পারে। ট্রাম্পের এমন হুঁশিয়ারি এবং কঠোর রণনীতির ফলে আন্তর্জাতিক মহল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।