প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দীর্ঘ চার বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের আসর জুন-জুলাইয়ে আবারো শুরু হতে চলেছে। এই প্রতিযোগিতায় যেমন নতুন তারকারা উত্থান ঘটে, তেমনি প্রতিষ্ঠিত সুপারস্টারদের জন্য প্রত্যাশা পূরণ কঠিন হয়ে ওঠে। পোল্যান্ডের ফরোয়ার্ড রবার্ট লেভানডভস্কির ক্ষেত্রে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন এখন প্রায় অনিশ্চিত হয়ে গেছে, কারণ প্লে-অফে সুইডেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে পোল্যান্ডকে।
৩৭ বছর বয়সী লেভানডভস্কি হারের পর নিজেকে আবদ্ধ রাখতে পারেননি। স্টকহোমে ম্যাচ শেষে সামাজিক মাধ্যমে তিনি একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে তিনি মাঠ ছাড়ছেন। ছবির পেছনে ব্যবহার করা হয়েছে ‘টাইম টু সে গুডবাই’ শব্দবন্ধ, যা অনেক ফুটবল অনুরাগীর কাছে তার আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেননি।
ম্যাচ শেষে পোলিশ গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় লেভানডভস্কি বলেন, তিনি এখন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে নেই। ক্লাবে ফিরে গিয়ে বাকি ম্যাচগুলো খেলতে চান এবং সেই সময় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববেন। এই মন্তব্য ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আশঙ্কা এবং কৌতূহল উভয়ই তৈরি করেছে।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার চার বছর পর পরবর্তী আসরে অংশ নেওয়া সম্ভব হলেও তখন তার বয়স ৪১-এর বেশি হবে। বয়সের কারণে সেখানে খেলার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। ২০০৮ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে লেভানডভস্কি পোল্যান্ডের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন। ২০১৪ সাল থেকে তিনি অধিনায়কত্ব করছেন এবং জাতীয় দলের হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ (১৬৫) এবং গোল (৮৯) করার রেকর্ডের মালিক।
জাতীয় দলের হয়ে আর কোনো বড় টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় এখন লেভানডভস্কির আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। একই সঙ্গে ক্লাব পর্যায়েও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, কারণ চলতি মৌসুমের শেষে তার বার্সেলোনা ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি শেষ হতে যাচ্ছে। এ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি ৩৭ ম্যাচে ১৬টি গোল করেছেন।
ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, লেভানডভস্কি যেমন পোল্যান্ডের জন্য একটি প্রতীকী খেলোয়াড়, তেমনি তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা জাতীয় দলের জন্য অনন্য সম্পদ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার সম্ভাব্য অবসরের প্রভাব কেবল পোল্যান্ড নয়, বরং ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবল ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যান্য অংশেও অনুভূত হবে।
অনুরাগীরা আশা করছেন, ক্লাব পর্যায়ে তার খেলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি মিলিয়ে দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত নেবেন। বিশ্বকাপে শেষবারের মতো মাঠে দেখা যেতে পারে তাকে, যা অনেকের কাছে আবেগপ্রবণ মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফুটবলে নতুন তারকারা উঠে আসলেও লেভানডভস্কির মত অভিজ্ঞ, নির্ভরযোগ্য এবং গোলদাতার মূল্য নতুন খেলোয়াড়দের মধ্যে সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়। তার অবসরের সম্ভাবনা ফুটবল জগতে নতুন যুগের সূচনা এবং পুরনো অধ্যায়ের সমাপ্তি উভয়কেই প্রতিফলিত করছে।
ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন লেভানডভস্কির পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে, যা তার ক্লাব ও জাতীয় দলের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে। এটি শুধু একজন খেলোয়াড়ের অবসরের গল্প নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল আইকনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হতে পারে।