ছক্কা মারলেই টি-টোয়েন্টি জেতা যায়: পারভেজ ইমন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৬ বার
ছক্কা মারলেই টি-টোয়েন্টি জেতা যায়: পারভেজ ইমন

প্রকাশ: ২১ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ যখন ছন্দে থাকে, তখন যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্যই তারা ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এর প্রমাণ শ্রীলঙ্কার মাঠে সিরিজ জয় দিয়েই মিলেছে, আর এখন সেটি যেন পরিণত হয়েছে একটি ধারাবাহিকতায়। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে চলমান সিরিজের প্রথম ম্যাচেও সেই ছন্দের ধারা বজায় রেখেছে টাইগাররা। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত অলআউট ক্রিকেট খেলেই বাংলাদেশ জয় তুলে নিয়েছে ৭ উইকেটে, তাও আবার ২৭ বল হাতে রেখেই। এমন এক পারফরম্যান্স শুধু আত্মবিশ্বাস বাড়াবে না, পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও দলকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।

তবে এই জয়ের পেছনে সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তরুণ ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। কঠিন কন্ডিশনে, চাপের মুহূর্তে হার না মানা ৫৬ রানের এক ইনিংসে দলের ভিত গড়ে দিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের দেয়া ১১০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে যখন শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ, তখন সেই ধাক্কা সামলে তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে গড়া ৭৩ রানের জুটি দলকে জয়ের পথে পৌঁছে দেয়।

ইমন এই ইনিংস খেলেছেন দারুণ পরিণত মনোভাব নিয়ে। ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমি আসলে বর্তমানে থাকার চেষ্টা করেছি। শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে ভাবিনি। কারণ ওটা শ্রীলঙ্কায় শেষ হয়ে গেছে। আমি চেষ্টা করেছি মনোযোগ ম্যাচে রাখার। বল দেখে খেলার।”

এই ইনিংসের মাধ্যমে শুধু দলকেই জয় এনে দেননি, নিজের আত্মবিশ্বাসও দৃঢ় করেছেন ইমন। ৫টি ছক্কা ও ৩টি চার হাঁকিয়ে তিনি পাকিস্তানের বোলারদের ছন্নছাড়া করে তুলেছিলেন। আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সফল হওয়ার জন্য ছয় মারার দক্ষতার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছেন ইমন। তার ভাষায়, “টি২০ খেলতে ছয় মারার এই দক্ষতা থাকতেই হবে। আমাদের সবার এই দক্ষতা আছে। একদম শেষে যে ব্যাটার নামে ওরও ছয় মারার ক্ষমতা আছে।”

তবে বাংলাদেশের এই জয়ের পরও উইকেট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন। তিনি এই উইকেটকে আন্তর্জাতিক মানের বলে মনে করেননি। তবে তার এই মন্তব্য নস্যাৎ করে ইমন জানান, “এমন কিছু মনে হয়নি। আমরা ১১০ রান করেছি ১৬ ওভারে। ২০ ওভার খেললে ১৬০ রান করতে পারতাম। হতে পারে ওরা মানিয়ে নিতে পারেনি, আমরা মানিয়ে নিতে চেষ্টা করেছি।”

বলা বাহুল্য, উইকেট যেমনই হোক না কেন, টাইগাররা নিজেদের সেরাটা তুলে ধরেছে। বল হাতে মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন আগুনে মেজাজে। তার বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তানের ব্যাটাররা। পুরো দল দুর্দান্ত ফিল্ডিং ও বোলিং করে পাকিস্তানকে অলআউট করে মাত্র ১১০ রানে। এরপর ব্যাট হাতে দায়িত্ব কাঁধে নেন ইমন ও হৃদয়। আগের ম্যাচে কলম্বোতে যেমন লিটন-হৃদয় জুটি দারুণভাবে খেলেছিল, এবার তেমন দায়িত্ব পালন করেন ইমন ও হৃদয়।

দেড় মাস আগেই পাকিস্তানের মাটিতে লাহোরে হোয়াইটওয়াশের অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে এখন আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। সেই আস্থা ও প্রতিশোধের তৃষ্ণা এবার তারা উগড়ে দিচ্ছে মাঠের পারফরম্যান্সে। মিডিয়ার সামনে মুখ খুলে ইমন জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ এখন আর কোনো দলের ছায়ায় নয়, বরং নিজের শক্তি ও সামর্থ্য নিয়ে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার মতো এক পরিণত টি-টোয়েন্টি দল।

এই জয়ের মাধ্যমে সিরিজে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের চোখ এখন সিরিজ নিশ্চিত করার দিকে। পরের ম্যাচেও যদি একই রকম অলআউট ক্রিকেট উপহার দিতে পারে লিটন-ইমন-হৃদয়রা, তবে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেও মাঠ ছাড়তে পারে টাইগাররা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত