বিসিবিতে অস্থিরতা নিয়ে আফতাবের কড়া সমালোচনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ বার
বিসিবি অস্থিরতা আফতাব মন্তব্য

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং নেতৃত্বের ক্রমাগত পরিবর্তন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ-কে উদ্বেগে ফেলেছে। দেশের ক্রিকেট প্রশাসন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলছেন, বর্তমানে বোর্ডে যা ঘটছে তা যেন একটি “সার্কাস”, যেখানে ক্রিকেটের মূল উদ্দেশ্য ও মান বজায় রাখা secondary হয়ে গেছে।

২০১৯ সালের পর রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ক্রিকেট প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিবর্তনের ফলে বিসিবি দীর্ঘদিন টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন প্রেসিডেন্ট পদে থাকা নাজমুল হাসান পাপনের পদত্যাগের পর পরবর্তী সময়ে সংস্থার নেতৃত্বে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফারুক আহমেদ বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৫ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি হন আমিনুল ইসলাম বুলবুল, কিন্তু নির্বাচনের সময় অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দেওয়া হয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে। সবশেষে সম্প্রতি সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

এই পরিস্থিতি নিয়েই আফতাব সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি ভিডিও বার্তায় বলেন, “যে পরিমাণ সার্কাস চলছে ক্রিকেট বোর্ডে, যদি ২ হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কিনেন, আপনার ওই টিকিট বৃথা যাবে না। এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সার্কাস হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড।” আফতাব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং সেখানে তিনি স্থানীয় ক্রিকেট ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, “আমেরিকায় আজকে তিন বছর। আমেরিকার ক্রিকেট বোর্ড কোথায় সেটাই জানি না। ক্রিকেট বোর্ডের মেম্বার কে, ওটা জানা তো অনেক দূরের কথা। তবে আমি প্রতিদিন ক্রিকেট নিয়ে কাজ করছি। বাংলাদেশে কোনো মানুষের ব্যর্থতা নেই। মিডিয়া এমনভাবে ঢোল পেটায় যে আপনি জানতে না চাইলেও জানতে হবে। এই সার্কাস আর কতদিন চলবে জানি না। ক্রিকেট তো এখন আর নাই, সার্কাস আছে। সার্কাসটা দেখার জন্য আপনাদের সবাইকে অনুরোধ জানালাম।”

আফতাবের মন্তব্য কেবল একটি ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া নয়, এটি দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতারও আভাস দিচ্ছে। তিনি মনে করেন, কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা এবং নীতি-নিষ্ঠা অনুপস্থিত হওয়ায় মূল লক্ষ্য—বাংলাদেশের ক্রিকেটকে উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা—প্রভাবিত হচ্ছে। সামাজিক ও পেশাদার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্রমাগত নেতৃত্ব পরিবর্তন, নির্বাচন সংক্রান্ত বিতর্ক এবং সংস্থার অভ্যন্তরীণ অসংগতি ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে স্থিরতা আনে নি।

আফতাব আহমেদের কথায় বোঝা যায়, দেশের ক্রিকেট প্রশাসন শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, পুরো দেশের ক্রিকেট দর্শক ও সমর্থকদের জন্যও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। তার মতে, খেলোয়াড় এবং সাধারণ ভক্তরা বোর্ডের ক্রমাগত অস্থিরতা এবং অদক্ষ প্রশাসনের কারণে প্রতিদিন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান নেতৃত্ব ও সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে এখনও সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি, তবে এই ধরনের সমালোচনা দেশের ক্রিকেটে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আফতাবের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, দেশের ক্রিকেটে সুশৃঙ্খল প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়োপযোগী, যাতে খেলোয়াড়, কোচ ও দর্শকরা নির্ভরযোগ্য প্রশাসন দ্বারা সঠিক নির্দেশনা ও সমর্থন পায়।

আফতাবের সমালোচনা দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা এবং সমন্বয়ের গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করছে। তার মতে, ক্রিকেট বোর্ড শুধুমাত্র প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য নয়, বরং খেলোয়াড়দের মানসম্মত প্রশিক্ষণ, সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট কাঠামো নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল হতে হবে।

বর্তমানে ক্রিকেট বোর্ডের এই অস্থির পরিস্থিতি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রশাসনের এই ধরনের অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদে খেলোয়াড়দের মনোবল ও জাতীয় দলের পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে। আফতাব আহমেদের বক্তব্যও দেশের ক্রীড়া সমালোচকদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

অতএব, দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন ও প্রশাসনের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বোর্ডের সকল সদস্যের কাছে দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ এখন অত্যন্ত জরুরি। আফতাব আহমেদের কথায় বোঝা যাচ্ছে, দেশবাসী ও ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা হলো, বিসিবি যেন শুধুমাত্র খেলাধুলার উন্নয়নে মনোযোগ দেয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত