প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বুধবার দুপুরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ বৈঠকে উভয়পক্ষ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংক্রান্ত উদ্যোগ এবং শক্তিশালী অংশীদারিত্বের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সাক্ষাতের পরে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সাংবাদিকদের বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ভারতের প্রচেষ্টা এবং অর্জিত অগ্রগতির বিষয়ে বনমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে। ভারতের লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং তারা ইতোমধ্যেই নবায়নযোগ্য ও অ-জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা কীভাবে করা যেতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ভার্মা বলেন, আলোচনার এক অংশ ছিল কার্বন ট্রেডিং সিস্টেম সম্পর্কিত। এই সিস্টেম বাংলাদেশও শীঘ্রই চালু করতে যাচ্ছে। আলোচনায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ এবং বিভিন্ন জোটে একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনাও উঠে এসেছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ভারত বাংলাদেশকে ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’-এর পূর্ণ সদস্য হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই উদ্বোধনী বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছে, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ গ্রহণ হয়নি।
মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বৈঠক সংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে বলেন, নেপাল আরও বেশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ সরবরাহের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের মাধ্যমে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আনার সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও ভারতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে শক্তিশালী অবকাঠামো এবং কার্বন ট্রেডিংয়ে অগ্রগতি থাকলেও বাংলাদেশ এখনও ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করতে সক্ষম হয়নি। এজন্য ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে ভিজিট করে এসব বিষয়ে ধারণা নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ভার্মা বলেন, ভারত এবং বাংলাদেশ পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করতে চায়। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কার্বন ট্রেডিং ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা উভয় দেশের জন্য ফলপ্রসূ হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল শীঘ্রই ভারত সফর করবে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে।
এই সাক্ষাৎটি কেবল সৌজন্যিক সীমাবদ্ধতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটির মাধ্যমে দুটি দেশের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংক্রান্ত সহযোগিতার নতুন পথ খোলা হয়েছে। বাংলাদেশের বনমন্ত্রীও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও স্থায়ী সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে পরিবেশ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
দুই দেশের এই আলোচনা আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ, শক্তি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু নীতি সমন্বয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বিশ্লেষকরা, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কার্বন ট্রেডিংয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।