সোহাগ হত্যা নিয়ে চাঞ্চল্যকর মোড়: পরিকল্পনায় ছিলেন না মহিন, অভিযোগের কেন্দ্রে টিটু

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫
  • ৪০ বার
সোহাগ হত্যা নিয়ে চাঞ্চল্যকর মোড়: পরিকল্পনায় ছিলেন না মহিন, অভিযোগের কেন্দ্রে টিটু

প্রকাশ: ২১ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনের এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে হত্যার ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মহিন দাবি করেছেন, এই হত্যাকাণ্ড তার নয়, বরং পলাতক আসামি সারোয়ার হোসেন টিটুর পূর্বপরিকল্পনার ফসল। তার ভাষ্যমতে, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব থেকেই এই হামলার সূত্রপাত এবং তিনি শুধু টিটুর নির্দেশে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মহিন বলেন, বহুদিন ধরে সোহাগ ও টিটুর মধ্যে ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে ঘটনার দিন টিটু, মহিনসহ কয়েকজন সোহাগকে হুমকি দিতে যায়। তখন উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের একপর্যায়ে সোহাগকে পাথর দিয়ে আঘাত করা হয় এবং নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

মহিন তার জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করেন, সোহাগের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। বরং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সোহাগ ভাঙারি ব্যবসায় একক কর্তৃত্ব বজায় রেখেছিলেন এবং একাধিকবার টিটন ও মহিনকে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মারধরও করিয়েছিলেন। নতুন সরকারের আমলে তারা সেই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্যোগ নিলে সোহাগকে সরে দাঁড়াতে চাপ দেওয়া হয়। সোহাগ সম্মত না হওয়ায় দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছে, যা শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত পরিণতি ডেকে আনে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মামলার মূল হোতা টিটু এখনও পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই নয়জনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে পাঁচজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন লম্বা মনির, আলমগীর, টিটন গাজী ও সজীব ব্যাপারী। এছাড়া রিমান্ড শেষে রাজিব ব্যাপারী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

এছাড়া আদালত সূত্র জানায়, গ্রেফতার হওয়া মহিন ১০ জুলাই প্রথম দফায় পাঁচদিন এবং ১৫ জুলাই দ্বিতীয় দফায় আরও পাঁচদিনের রিমান্ডে ছিলেন। এই সময়ের মধ্যেই তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে তার জবানবন্দি গ্রহণ করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে যে রাজনৈতিক কিংবা দলীয় দ্বন্দ্ব নয়, বরং সুস্পষ্টভাবে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক শত্রুতা দায়ী—তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিগুলো থেকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভাঙারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ঘিরে এই সংঘাত বহুদিনের এবং সোহাগের ওপর আগে থেকেই ক্ষোভ জমে ছিল অনেকের মনে। তারই বিস্ফোরণ ঘটে ওই দিন বিকেলে।

পুরান ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দিনের আলোয় এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং তার পেছনে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক প্রতিহিংসা নতুন করে নগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্থানীয় রাজনৈতিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, পলাতক টিটু কীভাবে এতদিন গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে এবং তার পৃষ্ঠপোষকতা কোথা থেকে পাচ্ছেন?

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই প্রাপ্ত জবানবন্দিগুলো যাচাই-বাছাই চলছে এবং ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি ও মোবাইল কললিস্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুরো ঘটনার কাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা আশাবাদী, মূল পরিকল্পনাকারীদের শিগগিরই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

সোহাগ হত্যাকাণ্ড একদিকে যেমন একটি ব্যক্তিগত শত্রুতার রূপ পরিগ্রহ করেছে, অন্যদিকে এটি পুরান ঢাকার ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় গোষ্ঠীগত প্রভাব বিস্তারের অন্ধকার জগতকেও তুলে ধরেছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার ও স্বীকারোক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের বিচারের মাধ্যমে দেশের আইনি কাঠামোর প্রতি আস্থা পুনঃস্থাপন হবে, এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত