ফের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, আশার ইঙ্গিত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৩ বার
ফের বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই আবারও আলোচনার টেবিলে বসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই শেষ হলেও উভয় পক্ষই আবার আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে—এমনটাই জানিয়েছেন বিশ্লেষক ও সাংবাদিক হামিদ মির।

পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ-এ এক টেলিভিশন আলোচনায় হামিদ মির বলেন, এই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে এমনটা বলা ঠিক হবে না। বরং এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ, যেখানে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সমাধান খোঁজা হয়। তার মতে, প্রথম বা দ্বিতীয় বৈঠকেই বড় ধরনের সমঝোতা আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।

প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিদল নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা করলেও সব বিষয়ে একমত হতে পারেনি। তবে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও কোন কোন বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। আলোচনায় অংশ নেওয়া সূত্রগুলো জানিয়েছে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিজ নিজ দেশের নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত করতে হবে।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ-এর মধ্যে সরাসরি আলোচনা হয়। সেখানে ভ্যান্স জানান, আলোচনার বিষয়গুলো তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে পর্যালোচনা করবেন। এই সংলাপই নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুদ্ধবিরতি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে আগ্রহী উভয় পক্ষ।

ইরানের পক্ষ থেকেও কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, কূটনীতি কখনো শেষ হয়ে যায় না। তার এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, তেহরান এখনো আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের পথেই এগোতে চায়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কিছুটা জটিল। একদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করছেন, অন্যদিকে আলোচনার টেবিলে কিছুটা নমনীয়তা দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্য ও কূটনৈতিক আলোচনার বাস্তবতা—এই দুইয়ের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

ইউরেনিয়াম ইস্যুতে দুই দেশ একটি মধ্যপন্থার দিকে এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং এটি ভবিষ্যৎ সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লেবানন ও আঞ্চলিক রাজনীতিও এই আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ ও হামাস-এর বিষয়ে তারা কোনো আপস করবে না। এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয়, ইরান তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে চায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়ে ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও লেবানন-এর মধ্যে আলোচনার আয়োজনের সম্ভাবনার কথা বলেছে।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং চীন। তাদের কূটনৈতিক উদ্যোগেই সাময়িক যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, যদি বড় কোনো সংঘাত না ঘটে, তাহলে এই প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে একটি স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোতে পারে।

পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এই আলোচনার সূচনা হয়েছিল, যা নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান আসেনি, তবে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকাই এখন সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্ব রাজনীতির এই সংবেদনশীল মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন করে বৈঠকের সম্ভাবনা তাই কেবল কূটনৈতিক খবর নয়, বরং একটি সম্ভাব্য শান্তির বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত