প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে জয় পেয়েও শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো বার্সেলোনাকে। মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২-১ গোলে জিতলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় বার্সেলোনাকে। মাত্র চতুর্থ মিনিটেই লামিনে ইয়ামালের গোলে এগিয়ে যায় কাতালান ক্লাবটি। এরপর ২৪তম মিনিটে ফেররান তোরেস ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ম্যাচে আবারও ফিরে আসে বার্সেলোনা, এবং দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন সমতায় চলে আসে।
তবে এই স্বস্তি বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ৩১তম মিনিটে আদেমোলা লুকমানের গোলে আবারও ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। এই গোলই শেষ পর্যন্ত টাইয়ের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। পুরো দুই লেগের লড়াই শেষে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় স্প্যানিশ ক্লাবটি।
পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে বার্সেলোনার আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। প্রায় ৭১ শতাংশ বল দখলে রেখে তারা একের পর এক আক্রমণ সাজায়। পুরো ম্যাচে দুই দলই ১৫টি করে শট নেয়, তবে লক্ষ্যে শটের ক্ষেত্রে বার্সেলোনার ছিল ৮টি, অ্যাতলেতিকোর ৫টি। সুযোগ তৈরি করেও বারবার গোল করতে ব্যর্থ হওয়াই শেষ পর্যন্ত বার্সার বিদায়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের গোলরক্ষক হুয়ান মুসো অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলকে ম্যাচে ধরে রাখেন। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভে তিনি বার্সার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দেন।
ম্যাচের শেষ দিকে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে বার্সেলোনার জন্য। ৭৭তম মিনিটে এরিক গার্সিয়া লাল কার্ড দেখলে তারা ১০ জনে পরিণত হয়। এর আগেও প্রথম লেগে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল দলটি। শেষ ১৯ মিনিট তারা একজন কম খেলোয়াড় নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেলেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
শেষ মুহূর্তে রবার্ট লেভানদোভস্কি ও রোনাল্ড আরাওহো সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ফলে জয় পেলেও দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে থাকার কারণে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বার্সেলোনাকে।
অন্যদিকে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের জন্য এই জয় ছিল ঐতিহাসিক। প্রায় নয় বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠতে পারায় দলটি উচ্ছ্বাসে ভাসে। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের উদযাপন ও সমর্থকদের উল্লাসে পুরো স্টেডিয়াম রূপ নেয় উৎসবের মঞ্চে।
বার্সেলোনার জন্য এই পরাজয় নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ, বল দখল এবং আক্রমণ—সব দিকেই এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ফল নিজেদের পক্ষে আনতে পারেনি তারা। কোচিং স্টাফের কৌশল, সুযোগ নষ্ট করা এবং লাল কার্ড—সব মিলিয়ে এই বিদায় আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে কাতালান সমর্থকদের জন্য।
অন্যদিকে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ দেখিয়েছে, বড় ম্যাচে ধৈর্য ও কার্যকর সুযোগ ব্যবহারের গুরুত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কম আক্রমণ করেও কার্যকর গোল করে তারা নিশ্চিত করেছে সেমিফাইনালের টিকিট।
সব মিলিয়ে, এই ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তা, উত্তেজনা এবং হতাশার এক পূর্ণাঙ্গ চিত্র, যেখানে শেষ হাসি হেসেছে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ।