প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জনপ্রিয় নির্মাতা Mezbaur Rahman Sumon-এর নতুন সিনেমা ‘রইদ’ মুক্তির তারিখ ঘিরে দর্শকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। নির্মাতা নিজেই জানিয়েছেন, বহুল প্রতীক্ষিত এই চলচ্চিত্রটি আসন্ন ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। ঘোষণার পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে ‘হাওয়া’ সিনেমার মাধ্যমে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করা মেজবাউর রহমান সুমন দীর্ঘ সময় পর নতুন এই চলচ্চিত্র নিয়ে ফিরছেন। প্রায় চার বছরের ব্যবধানে নির্মিত ‘রইদ’কে ঘিরে শুরু থেকেই দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। শুরুতে নির্মাতার পরিকল্পনা ছিল ঈদের পর অপেক্ষাকৃত শান্ত সময়ে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার, যাতে দর্শকরা গল্পের গভীরতা ও আবহ আরও মনোযোগ দিয়ে উপভোগ করতে পারেন।
তবে পরবর্তীতে সময়সূচি ও অন্যান্য বাস্তবিক বিষয় বিবেচনায় পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন নির্মাতা। তিনি জানান, সামনে বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আয়োজন থাকায় মুক্তির সময় পিছিয়ে দিলে দর্শকসামগ্রীর ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তাই শেষ পর্যন্ত তিনি ঈদুল আজহাকেই সিনেমা মুক্তির উপযুক্ত সময় হিসেবে নির্বাচন করেন।
‘রইদ’ সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন Mostafizur Noor Imran এবং Nazifa Tushi। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন Gazi Rakayet এবং আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ আরও অনেকে। শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতি সিনেমাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিনেমার প্রচারণার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে প্রথম গান ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’। গানটি লিখেছেন ও সুর করেছেন ‘সহজিয়া’ ব্যান্ডের রাজীব আহমেদ রাজু, আর সংগীত পরিচালনা করেছেন রাশীদ শরীফ শোয়েব। গানটি প্রকাশের পর থেকেই শ্রোতাদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে, যা সিনেমার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নির্মাতা জানিয়েছেন, সিনেমার শুটিং শুরুর প্রায় এক বছর আগেই এই গানের কাজ শুরু হয়েছিল। তার মতে, গানটি শুধুমাত্র একটি সংগীত নয়, বরং ‘রইদ’ চলচ্চিত্রের আবেগ ও যাত্রার প্রতীক। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, গানটির মতোই সিনেমার গল্পও দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলবে।
চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনায় এসেছে। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব International Film Festival Rotterdam–এর মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশন’-এ নির্বাচিত হয়ে ‘রইদ’ বাংলাদেশি সিনেমার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন এনে দিয়েছে। এই স্বীকৃতি সিনেমাটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আগ্রহও বাড়িয়েছে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ‘হাওয়া’র পর সুমনের নতুন কাজ হিসেবে ‘রইদ’ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে গল্প বলার ধরণ, দৃশ্যায়ন ও আবেগঘন উপস্থাপনার কারণে সিনেমাটি দর্শকদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ঈদুল আজহার বড় পর্দায় মুক্তি পাওয়া ‘রইদ’কে ঘিরে এখন থেকেই সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। নির্মাতার আগের সাফল্য, শক্তিশালী কাস্ট ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি—সবকিছু মিলিয়ে সিনেমাটি ঘিরে প্রত্যাশা ক্রমেই বাড়ছে।