২১ এপ্রিল এসএসসি, বাড়তি সতর্কতা জারি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৫ বার
২১ এপ্রিল এসএসসি, বাড়তি সতর্কতা জারি

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের বহুল প্রতীক্ষিত পরীক্ষা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল থেকে। দেশের লাখো শিক্ষার্থীর জন্য এই পরীক্ষা কেবল একটি একাডেমিক ধাপ নয়, বরং তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চলবে ২০ মে পর্যন্ত এবং প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হবে। এবারের পরীক্ষার সূচনা হবে বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে।

পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে উৎসাহ, উদ্বেগ ও প্রস্তুতির এক মিশ্র পরিবেশ। শিক্ষা বোর্ডগুলো রুটিন প্রকাশের সময়ই পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে, যা পরীক্ষার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা গেলে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে আসবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার্থীদের সময়নিষ্ঠা নিশ্চিত করতে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ আসনে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রশ্নপত্র বিতরণ, আসন বিন্যাস এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এবারের পরীক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সময় কঠোরভাবে অনুসরণ করা। কোনো ধরনের সময় বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ থাকবে না। এছাড়া বহুনির্বাচনী (MCQ) এবং সৃজনশীল (CQ) অংশের মধ্যে কোনো বিরতি রাখা হয়নি। প্রথমে বহুনির্বাচনী অংশ এবং এরপর ধারাবাহিকভাবে সৃজনশীল অংশের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে পরীক্ষার্থীদের সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র সংগ্রহের বিষয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে। কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে তার দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানকেই বহন করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

উত্তরপত্র পূরণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওএমআর ফরমে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং বিষয় কোড সঠিকভাবে পূরণ ও বৃত্ত ভরাট করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না, কারণ এতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশনা হলো—পরীক্ষার্থীদের বহুনির্বাচনী, সৃজনশীল এবং ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে। অর্থাৎ কোনো একটি অংশে অকৃতকার্য হলে পুরো বিষয়ে ফেল হিসেবে গণ্য করা হবে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি বাড়তি সতর্কতার বিষয়।

শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র তাদের নিবন্ধনপত্রে উল্লেখিত বিষয়গুলোতেই পরীক্ষা দিতে পারবে। অন্য কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে না। এতে করে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে, তবে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কেউ পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবেন না। এটি প্রশ্নফাঁস বা অনৈতিক কার্যকলাপ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

উপস্থিতি সংক্রান্ত বিষয়েও একটি নির্দিষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। বহুনির্বাচনী, সৃজনশীল এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য একই উপস্থিতিপত্র ব্যবহার করতে হবে। এতে করে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং তথ্য সংরক্ষণ সহজ হবে।

ব্যবহারিক পরীক্ষাগুলো নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে সরবরাহ করবে এবং কেন্দ্র তা অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডে পাঠাবে। এটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবারের নির্দেশনাগুলো শুধু নিয়মকানুন নয়, বরং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়াস। শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতির পাশাপাশি নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলাও এই পরীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

অভিভাবকদের মধ্যেও দেখা গেছে বাড়তি সচেতনতা। অনেকেই সন্তানদের সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা এবং মানসিকভাবে চাপমুক্ত রাখার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষার এই সময়টি শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি এটি আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলারও একটি সুযোগ। সঠিক প্রস্তুতি, সময় ব্যবস্থাপনা এবং নির্দেশনা মেনে চলার মাধ্যমে তারা এই ধাপটি সফলভাবে অতিক্রম করতে পারবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নির্দেশনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও সুসংগঠিত। এখন দেখার বিষয়, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাই কতটা দায়িত্বশীলভাবে এই নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত