প্রকাশ: ২২ জুলাই, ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন। বিশেষ করে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে ধীরগতির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে সংগঠন ‘জুলাই ঐক্য’। তারা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়েরকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছে। অন্যথায়, সংগঠনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে ‘কফিন মিছিল’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।
মঙ্গলবার, সংগঠনের পক্ষে ইসরাফিল ফরাজীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো শিক্ষার্থীদের শোকে স্তব্ধ গোটা জাতি, অথচ শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জোবায়ের মানবিকতার পরিচয় না দিয়ে পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে নির্লিপ্ত থেকেছেন। রাষ্ট্রীয় শোক থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা স্থগিত না করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষা উপদেষ্টা পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনার চেষ্টা করলেও সচিবের অনড় অবস্থানের কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে ফেসবুকে তথ্য উপদেষ্টার পোস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা আসে, যা গোটা শিক্ষা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
‘জুলাই ঐক্য’র বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সিদ্দিক জোবায়ের কেবল অযোগ্যই নন, বরং তিনি অতীতে রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে বারবার বিতর্কিত থেকেছেন। তাকে ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর’ বলে উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিদ্যুৎ খাতের লুটপাটে জড়িত একজন মন্ত্রীকে অতীতে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছেন তিনি। এমনকি তার অবসরোত্তর নিয়োগের পেছনেও রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে বলে দাবি সংগঠনটির।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বর্তমানে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া আমলাদের ‘পুনর্বাসন কেন্দ্র’ হিসেবে পরিণত হয়েছে। জুলাই ঐক্য তাদের পূর্বে প্রকাশিত ৪৪ জন আওয়ামী ঘনিষ্ঠ আমলার তালিকায় সিদ্দিক জোবায়েরকে ২৪তম হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর অপসারণের দাবি জানায়।
সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে তাকে বরখাস্ত করা না হলে সচিবালয়ের সামনে কফিন মিছিল করবে জুলাই ঐক্য।” পাশাপাশি তারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, “ভারতীয় প্রভাবিত ও আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ আমলাদের অবিলম্বে বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
এদিকে এখনো পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সিদ্দিক জোবায়ের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তা নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু একজন সচিবের অপসারণ নয়—এটি আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসনের দাবি থেকে জন্ম নেওয়া একটি বড় জনআন্দোলনের সম্ভাব্য ইঙ্গিত। পরবর্তী সময়ে সরকার বিষয়টি কীভাবে মোকাবিলা করে তা-ই স্থির করবে পরিস্থিতির গতিপথ।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন