“জনবসতিপূর্ণ শহরে ফাইটার ট্রেনিং কেন?”— প্রশ্ন তুললেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫
  • ৩১ বার

প্রকাশ: ২২ জুলাই, ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক |একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সম্প্রতি বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। এই ভয়াবহ ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত এবং সামরিক মহড়ার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, “আমার প্রশ্ন হলো, একটি প্রশিক্ষণ বিমান, তাও আবার ফাইটার জেট—এ ধরনের প্রশিক্ষণ কি কোনো জনবহুল শহরে হওয়া উচিত? সাধারণত এমন মহড়া জনমানবহীন এলাকায় পরিচালিত হয়। অথচ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর ঠিক জনবসতির মধ্যেই।”

 

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, “বিমান বাহিনীর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের তো জানার কথা এ ধরনের প্রশিক্ষণের জন্য উপযুক্ত স্থান বেছে নেওয়া কতটা জরুরি। আমাদের দেশে যুদ্ধ না হলেও প্রতি বছর মহড়া হয়—কিন্তু সেগুলো তো জনাকীর্ণ এলাকায় হয় না। তাহলে এবার কেন হলো?”

বিএনপি আয়োজিত এই বিশেষ দোয়া মাহফিলে মূলত মাইলস্টোন স্কুলে নিহত ও আহত শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের স্মরণে শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানানো হয়। নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানান।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, “যারা মারা গেছে, তারা তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু যারা বেঁচে আছে, তারা কি আর আগের মতো জীবনযাপন করতে পারবে? এই শিশুদের মৃত্যুতে তাদের মা-বাবার চোখের পানি কি আমরা ফিরিয়ে দিতে পারব? আমাদের যদি মাসব্যাপী, বছরব্যাপী শোক পালন করতেও হয়—তবু তো এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়। তাই আজ আমরা ধর্ম, দল, মত নির্বিশেষে সকল দেশের নাগরিকদের আহ্বান জানাচ্ছি—সৃষ্টিকর্তার দরবারে এক হয়ে দোয়া করতে হবে।”

মোনাজাতপূর্ব এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজনে বিএনপি নেতারা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য প্রার্থনা করেন। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, জাসাস নেতা হেলাল খান, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ সময় সকাল থেকেই দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং নেতাকর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করেন। জাতীয় শোকের আবহে অনুষ্ঠানে নীরবতা ছিল, আর হৃদয়ে ছিল বিষাদের ছায়া।

সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও নিরাপত্তা, পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিএনপির এই দোয়া মাহফিল এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্য সেই সমালোচনাকে আরও গতি দিয়েছে। জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ ও সামরিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে—সে বিষয়ে এখন জরুরি পুনর্বিবেচনার দাবি তুলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত