হাড় ও পেশি শক্ত রাখতে বিশেষজ্ঞের ৪ পরামর্শ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার
হাড় পেশি শক্তিশালী উপায়

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবে হাড় ও পেশির দুর্বলতা একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে মধ্য বয়সের পর থেকে অনেকেরই পেশির ভর কমে যাওয়া এবং হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস পাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দেয়, যা পরবর্তী সময়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে। তবে সঠিক জীবনধারা ও নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে এই ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

প্রায় ২৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সার্জন ডা. জেরেমি লন্ডন তাঁর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে জানিয়েছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের পেশি ও হাড়ের গঠন দুর্বল হতে শুরু করে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে সারকোপেনিয়া এবং অস্টিওপোরোসিস বলা হয়। এই দুইটি সমস্যাই দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক দুর্বলতা, চলাফেরায় সমস্যা এবং স্বনির্ভরতা হারানোর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

তবে তিনি বলেন, নিয়মিত কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে এই প্রক্রিয়া ধীর করা সম্ভব এবং অনেক ক্ষেত্রে ক্ষয় রোধ বা আংশিক পুনরুদ্ধারও করা যায়।

ডা. জেরেমি লন্ডন তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে হাড় ও পেশি শক্ত রাখতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরেছেন, যা ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রথম পরামর্শে তিনি বলেন, নিয়মিত রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং বা শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরি। শরীরের পেশি সক্রিয় রাখতে হলে তাকে ব্যবহার করতে হয়। ওজন তোলা, শরীরের ওজন ব্যবহার করে ব্যায়াম কিংবা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ পেশির গঠন শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন এ ধরনের ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ। পেশি গঠন ও পুনর্গঠনে প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রায় ১ থেকে ১.৫ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। মাছ, ডিম, মাংস, ডাল এবং দুগ্ধজাত খাবার প্রোটিনের ভালো উৎস হিসেবে কাজ করে।

তৃতীয় পরামর্শে তিনি বলেন, হাড়কে শক্ত রাখতে নিয়মিতভাবে হাড়ের ওপর চাপ প্রয়োগ করা প্রয়োজন। হাঁটা, সিঁড়ি ওঠানামা, লাফানো বা ভার বহন করে হাঁটার মতো শারীরিক কার্যকলাপ হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। এসব অভ্যাস হাড়কে সক্রিয় রাখে এবং দুর্বলতা কমায়।

চতুর্থ ও শেষ পরামর্শে তিনি ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। হাড়ের গঠন ও মজবুতির জন্য এই দুটি উপাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যাভ্যাসে দুধ, দই, ছোট মাছ এবং সূর্যালোক গ্রহণের মাধ্যমে ভিটামিন ডি নিশ্চিত করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চারটি অভ্যাস নিয়মিতভাবে অনুসরণ করলে শুধু হাড় ও পেশির ক্ষয় রোধই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে একটি সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপন নিশ্চিত করা সম্ভব।

চিকিৎসা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে বসে থাকা জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের অভাব হাড় ও পেশির সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাই তরুণ বয়স থেকেই সচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

জেরেমি লন্ডন বলেন, মানুষ বয়স বাড়ালেও কিভাবে বয়স বাড়বে তা অনেকটাই নির্ভর করে জীবনধারার ওপর। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই একটি শক্তিশালী শরীর গঠনের মূল চাবিকাঠি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, হাড় ও পেশির যত্ন শুধু বয়স্কদের জন্য নয়, বরং সব বয়সের মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অল্প বয়সেই যদি সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

সব মিলিয়ে, আধুনিক জীবনযাত্রার চাপের মধ্যেও নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন ও সঠিক পুষ্টি গ্রহণের মাধ্যমে হাড় ও পেশিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত